- আমার প্রেমিকেরা
আমি এক পরিযায়ী মজুর—
ঘাটে ঘাটে ফেলি নোঙর,
বদলাই শহর, বন্দর!
কাঁধে জীবনের বোঝা নিয়ে এসে
কচুরিপানার মতো যাই ভেসে।
যেখানে একটু মেলে অবকাশ,
সেখানে নিয়ে এক দীর্ঘশ্বাস—
মায়ার টানে খুঁজে ফিরি এক প্রেমিক।
আমার প্রথম প্রেম ছিল একটি দীঘির সঙ্গে—
ভাওয়াল রাজার দীঘি।
স্থির, গভীর, শান বাঁধানো ঘাট,
তার জলে তাকালে মনে হতো,
সময় বুঝি জলের তলায় ডুবে আছে,
ফিরে যাওয়ার নেই কোনো তাড়া।
তারপর ঘাট বদলালো।
তখন আমার প্রেমিক—
অশান্ত, প্রমত্ত পদ্মা।
দীঘির স্থির জল ছেড়ে
এবার প্রেম ছিল তরঙ্গের সাথে;
কখনও শান্তির ছদ্মবেশ,
কখনও হঠাৎ উন্মত্ত ঢেউ;
কখনও দু-কূল ছাপিয়ে
নিজেকেই হারিয়ে ফেলা স্রোত।
সন্ধ্যা নামলেই
ছুটে যেতাম কূলে—
জলের সঙ্গে জলের
এক গোপন অভিসার।
তারপরের প্রেম হয়ে এলো ধলেশ্বরী,
ভরা কটাল, মরা কটালে
রূপ বদলেছে তটিনী—
কোথাও জল অল্প,
পুরোনো স্রোতের চিহ্ন স্বল্প।
কাছে গিয়ে বুঝলাম—
প্রেমিক কাছে ডাকলেও
সব জলে মন টানে না।
এখন যে বন্দরে আছি—
সেখানেও বেরিয়েছিলাম
কোনো এক প্রেমিকের খোঁজে।
কিন্তু এখানে
জলাশয়ের বুকজুড়ে
শুধুই হিসাব-নিকাশ।
এই স্থবির বারি
তৃষ্ণা বোঝে না!
তখন জেনেছি—
সব স্বচ্ছ জলে
প্রেমিকের প্রতিচ্ছবি থাকে না।
@highlight
