ঐতিহাসিক ঘোষণা: দীর্ঘ ৭৮ বছরের বঞ্চনার অবসান এবং নতুন স্বপ্নের সূচনা
প্রিয় দেশবাসী,
সংবাদমাধ্যমের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ,
আজ আমরা এক ঐতিহাসিক সত্যের সামনে দাঁড়িয়েছি। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত, দীর্ঘ এই ৭৮ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এক ধারাবাহিক নির্যাতন, বৈষম্য এবং বঞ্চনার শিকার । এই সুদীর্ঘ যাত্রায় আমাদের রাজনৈতিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বারবার হুমকির মুখে পড়েছে। এই সময়ে সবচেয়ে বড় শূন্যতা ছিল আমাদের কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি। আমরা ছিলাম একটি দলহীন জাতি, যার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কণ্ঠস্বর ছিল না ।
কিন্তু গত , ৯ এপ্রিল ২০২৫, সেই ইতিহাস পরিবর্তিত হয়েছে । আমি অত্যন্ত গর্বের সাথে ঘোষণা করছি যে, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (BMJP) নির্বাচন কমিশন থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রথম রাজনৈতিক দল হিসাবে নিবন্ধন লাভ করেছে । এই নিবন্ধন শুধুমাত্র একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি আমাদের জাতির বহুদিনের স্বপ্ন, সংগ্রাম এবং প্রতিরোধের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আমাদের দলের স্লোগান হলো: “নির্যাতিত, নিপীড়িত, শোষিত, অধিকার বঞ্চিত মানুষ মাত্রই-মাইনরিটি” ।
আমরা বিশ্বাস করি যে, “যে জাতির দল নেই, সে জাতির বল নেই।” বিগত ৭৮ বছর ধরে আমরা এই সত্যটি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি। ১৯৪৭ সালে দেশের জনসংখ্যার ৩১% ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ছিল, যা ১৯৭১ সালে ২১% এবং ২০২৫ সালে এসে ১২.৫% এ দাঁড়িয়েছে । এই জনসংখ্যা হ্রাসের পেছনে রয়েছে ধারাবাহিক বঞ্চনা, জমি-জমা দখল এবং ধর্মীয় নিপীড়ন । আমাদের রাজনৈতিক শক্তি না থাকায়, আমরা আমাদের দাবিগুলো জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে পারিনি।
আমরা আরও বিশ্বাস করি যে, “যে জাতির রাজা নেই, সে জাতি তাজা নেই।” আমাদের মধ্যে এমন কোনো নেতৃত্ব ছিল না, যা সামগ্রিকভাবে আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। ফলস্বরূপ, আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি এবং আমাদের আত্মবিশ্বাস ক্ষুণ্ন হয়েছে।
বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (BMJP) এই ঐতিহাসিক শূন্যতা পূরণের জন্য এসেছে। আমরা এই দেশের প্রতিটি নির্যাতিত, নিপীড়িত, শোষিত ও অধিকার বঞ্চিত মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। আমরা অখণ্ড মানবতাবাদ ও বিশ্বঐক্যতাবাদী দর্শনে উজ্জীবিত হয়ে আমাদের ৫-দফা কর্মসূচী জাতির সামনে তুলে ধরছি:
1. ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা ।
2. রাজনৈতিক অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব: জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে সংখ্যালঘুদের জন্য ৫৬টি আসন সংরক্ষণ করা অথবা পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা ।
3. আইন ও প্রশাসনিক সুরক্ষা: সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, স্বতন্ত্র কমিশন ও স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠন এবং সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা ।
4. অর্থনৈতিক সুরক্ষা: সংখ্যালঘুদের ভূমি-সংক্রান্ত সকল সমস্যার সমাধান তাদের প্রচলিত আইন অনুযায়ী করা এবং ভবিষ্যতে তাদের সম্পত্তি যেন খাস বা অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে পরিণত না হয়, তার ব্যবস্থা করা ।
5. কর্মসংস্থান ও শিক্ষা: সরকারি চাকুরি সহ সকল ক্ষেত্রে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য ১৬% পদ সংরক্ষণ করা ।
আমরা জানি, এই পথ সহজ নয়। তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আপনাদের সকলের সম্মিলিত শক্তি এবং ভালোবাসা নিয়ে আমরা যেকোনো বাধা অতিক্রম করতে পারব। আসুন, আমরা সকলে মিলে এই নতুন রাজনৈতিক বলের অংশ হই। আসুন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ি, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমান অধিকার নিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে।
জয় হোক মানবতার ।
দিলীপ কুমার দাস
মহাসচিব, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (BMJP)
#সংখ্যালঘু_অধিকার_চাই,
#BMJP।
#সংখ্যালঘুর_স্বার্থে
#ঐক্যই_শক্তি
Leave a Reply