সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি প্রত্যাশী বেগম রহিমা শিকদার

সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি প্রত্যাশী বেগম রহিমা শিকদার

আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন বেগম রহিমা শিকদার।

দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও রাজপথের সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় একজন পরীক্ষিত নেত্রী হিসেবে পরিচিত।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আশির দশকে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা এবং সরকারি হরগঙ্গা কলেজ ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী (২০০৬-২০১৯) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের বিভিন্ন পদে থেকে সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে ভূমিকা রাখেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ সমবায় মার্কেটিং সোসাইটি লিঃ-এর নির্বাচিত সহ-সভাপতি এবং মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা বিআরডিবি-র সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনৈতিক জীবনে ব্যক্তিগত ত্যাগের বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য। বিবাহের অল্প সময়ের মধ্যেই স্বামীকে হারিয়েও তিনি রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সরে দাঁড়াননি। তার বড় ভাই মরহুম শাহজাহান শিকদার মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন। দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি একাধিক মামলার শিকার হয়েছেন এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

মনোনয়ন প্রত্যাশা প্রসঙ্গে বেগম রহিমা শিকদার বলেন, তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শ খালেদা জিয়ার আপহীন নেতৃত্বকে বুকে ধারণ করেন এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করতে চান। দল সুযোগ দিলে নারীর অধিকার রক্ষা ও এলাকার উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন বলেও জানান তিনি। সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তার সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। করোনাকালে দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-এর মাধ্যমে মানবসেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা এই নেত্রীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা রাজপথের কর্মীদের মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং জাতীয় সংসদে দলের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *