কোন প্রযুক্তি উদ্ভোধন হয়ে গেলে সবাই ভূলে যায় উদ্ভোবকের নাম  লেখক – ড. যশোদা জীবন দেবনাথ।

কোন প্রযুক্তি উদ্ভোধন হয়ে গেলে সবাই ভূলে যায় উদ্ভোবকের নাম লেখক – ড. যশোদা জীবন দেবনাথ।

কোন প্রযুক্তি উদ্ভোধন হয়ে গেলে সবাই ভূলে যায় উদ্ভোবকের নাম। আর এটাই হয়তো স্বাভাবিক। এই তো সেদিনের কথা, বাংলাদেশের ব‍্যাংক গুলো নিজেরা নিজেদের মতো করে বিভিন্ন সাইজের চেক বই প্রিন্ট করতো। তোমাদের হয়তো মনে আছে এক ব‍্যাংকর চেক আর এক ব‍্যাংকে জমা দিলে কমপক্ষে ৩/৪ দিন লাগতো কালেকশন হয়ে আসতে। ঐ সময়ে কথ কি তোমাদের মনে আছে? সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে হয়তো অনেকেই ভুলে গেছো। হয়তো যেমনটি ভুলে গেছো গ্রামের মাটির রাস্তা দিয়ে গরু চালিত গাড়ীর কথা, অথবা আশ্বিন মাসে পরাঙ্গী ধানের কথা। অতীত তো এমনই যা চলে যায় তা কেইই মনে রাখে না। তোমরা হয়তো ভাবছো আমি কেনই বা মনে করিয়ে দিচ্ছি? বন্ধুরা, কখনো কখনো নিজের ঢোল নিজেই পিটাতে হয় নইলে তো তোমরা আমাকেই ভুলে যাবা! আর আমার উদ্ভাবনের কথা তো ভুলবাই। যা হোক যেটা বলছিলাম ২০০৭ সাল থেকে কাজ শুরু করি। বাংলাদেশ ব‍্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্টের সাথে। মহিউদ্দিন সাহেব ওখানকার ইডি ছিলেন। বাংলাদেশে বিশ্ব ব‍্যাংকের একজন প্রতিনিধি ছিলেন তার নাম রেজ মিলার আর বাইরের লোক হিসাবে ছিলাম আমি। উদ্দেশ্য ছিলো বাংলাদেশের মানুষের অর্থ যেন দ্রুত লেনদেন গুলো সম্পূর্ণ করতে পারে। শুরু হলো কাজ। তৈরি হলো বাংলাদেশ অটোমেটিক ক্লিয়ারিং হাউজ। এখন পালা আসলো ফিজিক্যাল চেক কেমন হবে। তখন আমরা তৈরি করলাম কিছু ফ্রন্ট যা কিনা মেশিনে রিড করতে পারবে। তৈরি করলাম E13 B ফ্রন্ট। যা কিনা মেশিন রিডেবল। ৫/৭ প্রকার সিকিউরিটি ফিচার থাকতে হবে চেকের পাতায়। সাইজ হবে একই রকম। যে কথা সেই কাজ। যাত্রা শুরু করলাম। ব‍্যাংকগুলোকে বুঝাতে শুরু করলাম। ঐ সময় সব ব‍্যাংক গুলো চেক বই প্রিন্ট করে গাজীপুর টাকশাল থেকে। কেউই বের হতে চায় না ওখান থেকে। সরকারি প্রতিষ্টান বলে কথা। যাহোক বুঝাতে বুঝাতে দুই বছর লেগে গেলো। অবশেষে ২০০৯ সালে কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌছাইলাম। শুরুহলো MICR চেকের যাত্রা। সুফল হিসাবে তোমরা আজ পাচ্ছো। দিনে দিনেই চেকের মাধ্যমে সহজেই লেনদেন গুলো অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সু সম্পূর্ণ করতে পারছো! আর সহজে ভুলে গেলে আমাদের কথা। মহিউদ্দিন সাহেব বেচে নেই। রেইজ মিলার ও মরে গেছে তার জন্ম ভূমিতে যেয়ে। আর আমি বেচে আছি হাজার হাজার মাইল দূরে। তোমার সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছি। কখনও কখনও 24/7 আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তোমরা একটু টেরও পাচ্ছো না। হয়তো তোমরা ভুলেই গেছো এই এক ইতিহাসের কথা। তোমরা নতুন প্রজন্ম। মাঝে মাঝে তোমাদের বুঝতে কষ্ট হয়। হয়তো হয়তো নতুন কিছু আবিষ্কার করে আমাদের ব‍্যাক ডেটেড চিন্তা চেতনাকে ছূরে ফেলে দিয়ে নতুন কিছু দেখাবে। যদি ভালো কিছু হয় তাহলেই ভালো…

শুভ কামনা
৩১.০৯.২০২৫

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *