নাটোরের সিংড়া উপজেলার ১নং সুকাশ ইউনিয়নের রণবাঘা থেকে বোয়ালিয়া, কুড়িপাকিয়া ও কাছুটিয়া গ্রামের সংযোগ সড়কে একটি কালভার্ট দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কালভার্টটির ওপর কাঠের তৈরি অস্থায়ী সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৯টায় সরেজমিনে দেখা যায়, কালভার্টের একাংশ ভেঙে গিয়ে নিচে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙা অংশে কাঠের পাটাতন বসিয়ে কোনোভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অস্থায়ী পাটাতনটি নড়বড়ে হওয়ায় বিশেষ করে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। অটোচালক ও পথচারী মানুষেদের অভিযোগ, আমাদের নিত্যদিনের সাথী এই পথ। এই পথ ধরেই প্রতিদিন মানুষের চলাচল, কৃষকের মাঠে যাওয়া-আসা, শিক্ষার্থীদের পথচলা জীবনের কত প্রয়োজন মিশে আছে এই পথের সঙ্গে। কিন্তু এই পথ পারাপারে মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। অটোচালকেরা নিজেদের উদ্যোগে টাকা তুলে পারাপারের জন্য এই কাঠের সাঁকোটি তৈরি করেছেন। বড় গাড়ি পার হওয়ার সময় চালকদের সঙ্গে করে কাঠ নিয়ে এসে কোনোভাবে সেতুর ওপর বসিয়ে পার হতে হয়। অনেক সময় গাড়ি আটকে যায়, তৈরি হয় চরম ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা। অথচ প্রতিদিনের যাতায়াতের এই গুরুত্বপূর্ণ পথে এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু যেন নীরবে বড় কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষায় রয়েছে। একটু অসতর্কতা, সামান্য ভারসাম্যহীনতা ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ, পথচারী ও ছোট যানবাহনের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কুড়িপাকিয়া আযিযুল উলুম ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার শিক্ষিকা হেনা কবির বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। শিক্ষার্থী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সাধারণ পথচারী ও এলাকাবাসী দ্রুত কালভার্টটি সংস্কার বা নতুন করে আরো একটি কালভার্ট নির্মাণ করে নিরাপদ ও স্থায়ী চলাচলের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। শিক্ষিকা হেনা কবির আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নয়, দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এই স্থানে একটি নিরাপদ ও স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। মানুষের নিত্যদিনের চলাচলের এই পথটি হোক নিরাপদ, সুন্দর ও নির্বিঘ্ন।
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার – আবুল বাশার

