কবি নেয়ামত ভূঁইয়া এর কবিতা-ব্যথা

কবি নেয়ামত ভূঁইয়া এর কবিতা-ব্যথা

ব্যথা
১
সব ঠিক আছে—বলতে বলতে
শব্দগুলো আজ হয়ে গেছে মৃত কাঠের মতো,
ভেতরে জেগে থাকে দমবন্ধ ঝড়,
উন্মত্ত সমুদ্রের গভীর গর্জন
মনের অদেখা উপকূলে আছড়ে পড়ে।
তবুও মুখে হাসি আঁকি—
এক অদ্ভুত, জড়ানো হাসি,
যাতে পৃথিবী কখনো সন্দেহ না করে যে
আমার বুকের গহীনে
কতটা বিষাদ, কতটা ক্ষয় জমে আছে।
২
রাতের পর রাত ঘুম নামে না চোখের সিকতা সাগরে
অন্ধকার যেন আঙুলে স্পর্শ করে চোখের কোণ।
অশ্রুতে ভারী হয়ে ওঠা চোখের পাতা
ক্লান্ত অভিনয় করে ঘুমের—
যেন শান্তির আড়াল আছে আমার মুখে।
কিন্তু কেউ বোঝে না—
এই ব্যথা তো অদৃশ্য, অদৃশ্য আগুনের মতো,
যা ভেতরটা পুড়িয়ে ছাই করে,
কিন্তু বাইরের পৃথিবী দেখে শুধু
একজন নীরব, নির্বিকার মানুষ।
৩
কত অচেনা দীর্ঘশ্বাস ভাসে বাতাসে,
যা শব্দ হয়ে জন্ম নিতে পারে না।
দেয়ালের ফাটল, নীরব জানালা,
সবাই যেন আমার হাহাকার শুনতে পায়,
তবুও কোনো উত্তর আসে না।
আমি শুধু চুপচাপ শুনি—
মনের গহ্বরে জমে থাকা শূন্যতার প্রতিধ্বনি,
যেন ভাঙা ঘণ্টার করুণ ধ্বনি
দূরের আকাশে ম্লান হয়ে হারিয়ে যায়।
৪
এই বেদনার গভীরতা মাপার মতো মাপকাঠি নেই
প্রকাশের কোনো ভাষা নেই,
কোনো শব্দ নেই, নেই কোনো সান্ত্বনা।
এ যেন নিজের সঙ্গেই এক অসীম যুদ্ধ—
আমি বনাম আমার স্মৃতি,
আমি বনাম আমার অপূর্ণতা।
প্রতিটি দিন মনে হয়
যেন নতুনভাবে কাঁটার বিছানা বিছানো হচ্ছে,
আর আমি নিঃশব্দে তার ওপর শুয়ে পড়ি
কারণ লড়াই ছাড়া আমার আর কোনো পথ নেই।
৫
তবুও আমি হাঁটি,
একটি ভাঙা হৃদয়ের তীক্ষ্ণ টুকরো বুকের ভেতর লুকিয়ে।
আমি জানি, এই ব্যথা ছাড়া
আমার অস্তিত্বের কোনো চিহ্ন থাকত না।
ব্যথা আমাকে ভেঙে দিয়েছে,
আবার এই ব্যথাই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
আমি বাঁচি—
কারণ ব্যথার শ্বাস-প্রশ্বাস
আমার শিরায় শিরায় বলে দেয়;
আমি এখনো জীবিত প্রাণী।
৬
এই ব্যথা আমার একমাত্র সঙ্গী,
আমার একমাত্র সত্যি আলো।
যখন পৃথিবীর সব দরজা বন্ধ হয়,
ব্যথা তখন আমার হাত ধরে হাঁটে।
অশ্রুর ভেতর যে অদৃশ্য দীপ্তি জ্বলে,
সেই দীপ্তি আজ আমার শেষ সান্ত্বনা।
আমি জানি, একদিন হয়তো
এই ব্যথাই হবে আমার মুক্তি,
আমার শেষ নিঃশ্বাসের সঙ্গীত,
শেষ আলো, শেষ অশ্রুবিন্দু।
–

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *