লেখিকা কাজী নাজরিন এর”লেখা কবিতা :-শরৎ পূর্ণিমায়
oplus_34

লেখিকা কাজী নাজরিন এর”লেখা কবিতা :-শরৎ পূর্ণিমায়

শরৎ পূর্ণিমায়
কাজী নাজরিন

পাশাপাশি বসে বিকেলের জ্যোৎস্না স্নানে মত্ত ছিলাম তুমি আর আমি
মনে পড়ে তো, সেই মিষ্টি বিকেলের মিষ্টি রোদের
লুকোচুরি খেলা
কাশফুলের দোল খাওয়া দেখতে দেখতে বিকেলটা কেমন যেন মিষ্টিময় মনে হতো,
শিউলি ফুলের উষ্ণতা অনুভব হতো ফকফকা নীলাভ আকাশের বুকে
সাদা নীল মিশ্রণে শাড়ীর সাথে ম্যাচিং করা সাদা পাঞ্জাবী পরা মানুষকে দেখে মনে হতো শুভ্র মেঘের ভেলা!
চিকচিক রোদ্রতাপে মুখায়বদ্বয় আরও আরও
উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে দিতো শরতের পড়ন্ত বিকেলে।
কাশফুলের মিষ্টি বাতায়নে বসে খোশগল্পে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা,
গল্পের যেন শেষ নেই, গল্পের ভেতর গল্প জমে আরও বিস্তৃত গল্পের সৃষ্টি
অপলক দৃষ্টিতে মনের মাধুরি মিশিয়ে কাব্য কথন।
মনে পড়ে? শরত কাব্যে মুখরিত সেসব দিনগুলোর কথা!
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা আর সন্ধ্যা গড়িয়ে
শরৎ পূর্ণিমায় হারিয়েছি কতো শতো
শরতের পূর্ণিমা রাতে পুকুর ঘাটে বসে নবদম্পতি হারিয়ে যেতাম মধুর আলাপনে,
পূর্নিমা চাঁদের আলো যেনো আমাদের প্রেমের সাক্ষী, আমাদের পাহারাদার!
শরৎ পূর্ণিমা রাতে আলতো হাতে ছুঁয়ে
শাড়ীর আঁচল মাথা হতে সরিয়ে
চাঁদমুখখানা দেখতে অধীর আগ্রহে।
শরৎ পূর্ণিমায় আমরা হারিয়ে যেতাম প্রেমের শহরের আনাচে কানাচে,
আমাদের প্রণয় বাঁশিও কিন্তু শরৎ পূর্ণিমায় পূর্ণতা পেয়েছে।
মনে পড়ে, সেদিন আংটি বদলের পর
আমরা শরৎ পূর্ণিমার রাতে আকাশের নিচে নীরব নিস্তব্ধতায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিলাম,
গভীর আবেগ ভরা চাহনিতে।
আমাদের পূর্ণতার কথাগুলো এখনো মনে পড়ে,
শরৎ পূর্ণিমার সেই মাধূর্য আমার জীবনের পরতে পরতে সাতরঙা সুর তোলে,
শরতের পূর্ণিমায় আমি আজও মিটমিটিয়ে হাসি একাকী ক্ষণে।
আর তাইতো আমার কাছে শরৎ পূর্ণিমা মানে
মন আকাশে তারাদের রিনিঝিনি সুর
কাশফুলের দোল খাওয়া স্মৃতি!
শিউলি ফুলের উষ্ণতা অনুভব!

3 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *