কথা তুমি রাখোনি
যাই যাই করছিলে সে কবে থেকে
অবশেষে চলে গেলে বিবর্ণ সকালে
আসি বলে যাও না কখনো তুমি
রীতিতে নেই তোমার সে আমি জানি।
প্রতিবারই যাও তুমি রাত শেষে
আলো ফোটার আগে ঘুমন্ত শহরে।
অথচ কথা ছিল পানকৌড়িদের সাথে
সাঁতার কাটব দু’জনে শৈবাল সরোবরে
দুটি গোলাপি পদ্মফুল ছিঁড়ে নিয়ে
গুঁজে দেব তোমার খোঁপার দু’পাশে।
জলকেলি শেষে ক্লান্ত দেহে শুয়ে রব
অশথের তলে চোখে চোখ রেখে –
ভেজা চুলে নাকমুখ ঘঁষে গন্ধ নেব
অনন্তের – তর্জনী দিয়ে ছুঁয়ে নেব
ভুরু মাঝে লেগে থাকা দু’ফোঁটা জলকণা
ভ্রুকুণ্ডী বীজের মতো ভরে রবে
শরীর জুড়ে ভালোবাসার সব মিহিদানা
চৈত্রদুপুরে লেখা হবে অলস কাব্যখানা।
বৈকালী রোদের ডানায় বসে উড়ে উড়ে
মেঘপুঞ্জের শিখরে শিখরে ঘুরে ফিরে
সুর্য ডোবার কিছু আগে হরীতকী গাছের
ঊর্ধ্ব শাখায় হরিয়ালিদের বাসায় সান্ধ্য সভায়
নিচু স্বরে হাসাহাসি মাখামাখি শেষে
দু’জনের দু’হাত দু’কাঁধে রেখে পাড়ি দেব
নক্ষত্রদের দেশে-
উত্তরের হাওয়ায় শুভ্র রেশমি
উত্তরীয় দু’খানি দেহ থেকে উড়ে যাবে মধ্যাকাশে
ধবলা চাঁদের রুপালি আলোয় চমকিত হবে
সোনালি দু’দেহের মঞ্জুরিত সব শাখাপ্রশাখা।
পৃথিবী-চাঁদ-জোছনা-ঘাাসের পরে চিকিমিকি শিশির
সবকিছু পিছু ফেলে গভীর অন্ধকার ভেদ করে
ঠিক মধ্যরাতের আগে পৌঁছে যাব নক্ষত্রদের দেশে।
এক দুই তিন করে নক্ষত্র সব ছুঁয়ে ছুঁয়ে
থেকে থেকে মৃদু হেসে ভেজা ঠোঁটে ঠৌঁট ঘষে
দেবতাদের ঘরে রত্নভোজ সেরে উড়ে যাব
আরো দুরে-দুর থেকে শত আলোবর্ষ দুরে
মহাবিশ্ব ছেড়ে অন্তহীন ভালোবাসার দেশে।
স্বর্গীয় এই মহাযাত্রা শেষে পরিপুর্ণ হৃদয়ে
পৃথিবীতে ফিরে এসে
পড়ন্ত রাতের অন্ধকারে
সুর্য উঠার বহু আগে
গভীর রাতে সাগর বেলাতে
হৃদয় ও দেহের দেওয়া-নেওয়া সেরে
ডুব দেব উথাল ঢেউয়ের ভিতরে
অনাদিকাল ধরে না ফেরার দেশে।
এসব কথা রাখনি তুমি,
কথা তুমি রাখো না সে আমি জানি।
পৃথিবীর মায়া বড়ো বেশি তোমার
তাই একা আমি কথা রেখে
দাঁড়িয়ে আছি ভোর রাতে,
সাগরের পারে অন্তহীন শূন্যতা নিয়ে
মুঠি করা হাতে ধরা আছে এখনো
সেই চৈত্র দুপুরের পদ্ম দু’খানা।
নাসির চৌধুরীর কাব্যসমগ্র পৃষ্ঠা ৪৫৭ – ৪৫৮
Leave a Reply