লেখিকা গীতশ্রী সিনহা এর  লেখা শ্রুতিনাটক-ধ্যাততেরিকি

লেখিকা গীতশ্রী সিনহা এর লেখা শ্রুতিনাটক-ধ্যাততেরিকি

শ্রুতিনাটক —– “ধ্যাততেরিকি”
কলমে —— গীতশ্রী সিনহা
চরিত্র — ১) কলমিলতা ( কাজের লোক )
২) শাশুড়ি ( শান্তি ) বাঙাল ভাষার টান
৩) বউমা ( দিয়া )

শাশুড়ি —– গুনগুনিয়ে রবীন্দ্রসংগীতের লাইন গেয়ে চলেছে আপন মনে,
“যখন বেলা -শেষের ছায়ায় পাখিরা যায় আপন কুলায় মাঝে,
সন্ধ্যাপুজার ঘন্টা যখন বাজে….. ”
বউমা —– উফ কী কু’ক্ষণে যে আপনার নাম “শান্তি” রাখা হয়েছিল? সাতসকালে সন্ধ্যাপুজার ঘন্টা বাজিয়ে চলেছেন!
কেন বাবা সকাল সকাল ঠাকুরের নাম করতে পারেন না ? ওই যে মাকালীর ওই… ওই গানটা করুন না ! মনে হয় তো জীবনের ইচ্ছা কিছুই পূরণ হয় নি ?
শাশুড়ি —– করো বউমা তুমিও আমার সাথে করো।
” সকলি তোমারি ইচ্ছা – ইচ্ছাময়ী তারা তুমি, তোমার কর্ম তুমি করো মা লোকে বলে করি আমি ” ( কষ্ট করে গলা মেলালো বউমা )
কলমিলতা —– আরে ব্যাস !!! সকাল থেকে জি বাংলার সারেগামাপা !!! ( দ্রুত )
ধ্যাততেরিকি, যত ভাবি কথা কম বলবো…
শাশুড়ি —— তুই চুপ কর দেখিনি! টিকটিকির মতো টিকটিকি করেই চলিস!
বউমা ও বউমা ( গলা উঁচিয়ে ) খোকা ঘুমাচ্ছে, তুমি সাতসকালে সন্ধ্যাপুজার ঘন্টা শুনে উঠে গেলে বুঝি ?
বউমা —– একটু কাজ আছে, তাড়াতাড়ি বেরোতে হবে আজ।
শাশুড়ি —– আজ কী বার বউমা? কতো সাধ করে ঘরে তুললাম, সুখে ঘরসংসার করবে।
কলমিলতা —– একি ! ভুলে গেলে গিন্নী মা ? বউমনি তো নিজেই দাদার হাত ধরে ঘরে উঠেছে ? এই দেখো ঠাকুর ঘর থেকে বাংলা-ইংরেজি ক্যালেন্ডার নিয়ে এলাম, রবিবার দেখাচ্ছে গো আজ।
শাশুড়ি —— সে তো আমিও জানি, কিন্তু বউমা… কী বলি বলো তো তোমাকে ?
বউমা —— আ-রে বা-বা, রোববার কোনো কাজ থাকতে পারে না বুঝি ?
শাশুড়ি —– সারা সপ্তাহ অফিসের পর ছুটি থাকবে না? খোকা আমার, ঘরে আজ…
কলমিলতা —– রোববারেই তো দাদাবাবুর সাথে একটু এদিক-সেদিক —- একটু- আধটু ঠাট্টা-তামাশা করার দিন ( হিহিহিহি হাসি ) কি গো বৌদি মনি ????
শাশুড়ি —– লতা, যা দেখি, খাসা করে চা কর সকলের জন্য ! বড্ড কথা হয়েছে তোর ( বিরক্তি কন্ঠ)।
কলমিলতা —– গিন্নী মা, নাম ঠিক করে বলো কিন্তু ! তোমাদের কলমি পাতেও খায় আবার গাছেও বায়, লতা বলে নরম ভেবো না আমাকে !
শাশুড়ি —- সাতসকালে মাথা খারাপ করিস না, যা দেখি নি চা নিয়ে আয় কড়া করে।
বউমা —– বসে বসে চা খাওয়ার সময় নেই, আমি একদম ব্রেকফাস্ট করে নেবো, এত্তো ভনিতা আমার পোষায় না বাবা !
শাশুড়ি —— বলছিলাম কী বউমা… সারা সপ্তাহ তো অফিস… আবার বেশ রাত করেও বাড়ি ফেরো…. তাছাড়া বউমা… তোমার অমন পোশাক- আশাক নিয়ে… আসলে… কী বলি… বউমা… মানে….
বউমা —– ঝেড়ে কাশুন (২) তো দয়া করে ? আসল কারণ কোনটা ? রাত করে ফেরা – আপনার ছেলে, নাকি পোশাক আশাক?????
শাশুড়ি —– থামো বউমা, থামো, থামো… বহ্নি নাম বদলে আমি দিয়া নাম রাখলাম, যাতে তুমি আমার সংসারের প্রদীপ হয়ে জ্বলজ্বল করো।
কলমিলতা —– এ-এ-তো দিনে বুঝলাম বহ্নি বৌদিমনি রাতারাতি কেন দি…য়া হয়ে উঠলো ? কেন বাবা আমার নামটা পাল্টাতে পারো না ? জলাপুকুরে আমার জন্ম, সে-ই কবে থেকে এক-ই নাম ? রাতের বেলায় জ্বর আসে জলে থেকে থেকে।
শাশুড়ি —– চুপ কর দেখি লতা? আর ক..থা বাড়াস নি!
দেখো বউমা ( গলা নামিয়ে ) নতুন জায়গা, লোকজনের উঁকিঝুঁকি বুঝতে পারি, মুখে বলে না,কতো প্রশ্ন ওদের মনে মনে…
বউমা —— আপনিও তো হাতা কাটা ব্লাউজ পরে আছেন মা ?
শাশুড়ি —— আমার বয়স আর তোমার বয়স বউমা?
বউমা —– আপনি তো কতোদিন গায়ে জামা না দিয়ে বার্থরুম থেকে….
শাশুড়ি —– আমি বোধহয় তোমাকে বোঝাতে পারছি না বউমা? আসলে বউমা,খোকা এতো বড় অফিসার… একটা প্রেস্টিজ তো আছে ?
বউমা —— হ্যাঁ হ্যাঁ এইজন্যই তো অতোবড় অফিসার প্রতিদিন সুধাকর হয়ে লিফটে না উঠে সিঁড়ি দিয়ে টলতে টলতে আসে????
শাশুড়ি —– চুপ করো বউমা, আস্তে বলো ( গলা নামিয়ে ), আমিই খোকাকে না করেছি, লিফটে আটকে গেলে তো বিপদ !!!!
বউমা —– এই আপনাদের জন্য মা, ঠিক আপনাদের জন্য ( গলা উঁচিয়ে ) মেয়েরা অল্প পোশাকে বেশ্যা আর ছেলেদের অল্প পোশাকে সাধু সাধু !!!
শাশুড়ি —– অমন বড় পোস্টে কাজ করলে একটু – আধটু….
বউমা—– আমিও কম বড় পোস্টে কাজ করি না মা ? তবে কথা দিলাম আমিও সিঁড়ি দিয়ে আসবো ও-ই টলতে টলতে…
শাশুড়ি —– মুখের লাগাম দাও বউমা, এমন কাজটি ভুলেও করো না,
বউমা —– মা আপনার জন্যও নিয়ে আসবো, ঘরে বসেই ঢুক ঢুক ! খাবেন মা, নিয়ে আসবো? ছেলে সুধাকর আর মা সুধাময়ী….. এবার জমবে মজা !!!
শাশুড়ি —— ও – হ ! তোমার বাবা সারাজীবনে যা পারলেন না !!!
বউমা —— বাবাও কী সুধাকর ছিলেন মা ? বাবা খেতেন মা ?
শাশুড়ি —– ওই প্রতি মাসে মাইনের দিন একটু – আধটু… খোকা কে বলো না কিন্তু!
বউমা —– আমিও এক-আধদিন খেলে খোকাকে বলবেন না কিন্তু !
কলমিলতা —— আমি একটা কথা বলতে পারি ? যত ভাবি চুপ থাকবো ! তোমাদের বাজার করে ফেরার সময় হাতে টাকা ছিলনা, তাই কাঁচা লঙ্কা কেনার সময় সব টাকা দিয়ে চলে এসেছি, ক’টা খুচরো রেখে আর কী হবে ?
বলে দিলুম বাজারের পুরো হিসেব কিছু দিতে পারবো না গিন্নী মা।
শাশুড়ি —— চাই না হিসেব, তুই মুখ বন্ধ রাখ দেখিনি।
কলমিলতা —– ধ্যাততেরিকি ( জোরে সাথে ) ! আমাকে শুধু চুপ করিয়ে রাখে ! কলমিরও কথা থাকতে পারে গো ( গলা উঁচিয়ে )
দেখো, আজ বিশ্ব কাজের লোক দিবস, আজ আমার কথায় কোনো ট্যাক্স বসবে না। এদিকে সকাল সকাল জ্যামে আটকে ছিলাম….. সেটা কী বলেছি?
শাশুড়ি —– বউমা ও বউমা কাছে এসো মা, এবার একটু সংসারে মন দাও মা ।
কলমিলতা —– ওই যে তোমরা কী সব কারণ সুধার কথা বলছিলে না ? আমার স্বামী তো বলে ভগবানের চরণামৃত, দাঁড়াও দাঁড়াও বলছি… ধ্যাততেরিকি, ঠিক সময় কিছু মনে আসে না বাবা !!! পড়েছে পড়েছে মনে… অমৃত গো অমৃত !
শাশুড়ি —– রাখ তো তোর কারণ – অকারণ সুধা।
বউমা —– আপনি না হয় মা এবার থেকে অকারণে সুধা পান করুন, আমি সাপ্লাই দেবো, না না কাকপক্ষী জানতে পারবে না !
শাশুড়ি —— বউমা এবার একটু হামাগুড়ি দেখতে চাই মা, ঘরগৃ্‌হস্থ সুখের হবে !
বউমা —— হামাগুড়ি? বেশ তো মা, ভালো ব্যায়াম হবে, হামাগুড়ি, দাপাদাপি সব করুন। ঘরগৃহস্থালী চঞ্চল হবে,সুখের হবে মা।
শাশুড়ি —– চার বছর পার হয়ে গেল, খিলখিল হাসি দেখলাম না
বউমা —– কলমি ও কলমি তোর গিন্নী মা-কে খিলখিল হেসে দেখিয়ে দে তো।
কলমিলতা —– ধ্যাততেরিকি !!!! সেই ছাই ফেলতে ভাঙ্গা কুলো !
বউমা —– আচ্ছা মা আপনার তো পঞ্চাশ বছরের দাম্পত্য জীবনে ওই একটাই খোকা, আমারও তাই হবে …!
শাশুড়ি —–আমি বৃদ্ধাশ্রম চলে যাবো।
কলমিলতা —– আমি বাবা বৃদ্ধাশ্রম গিয়ে তোমায় দেখাশোনা করতে পারবো না ! ধ্যাততেরিকি যতসব ঝামেলা। কলমি তুই মর রে মর, মর মর মর… আমি কিন্তু ম্যাসিন না ? এবার থেকে জিরিয়ে জিরিয়ে কাজ করবো।
বউমা —— নিজের ছেলের দোষ দেখতে শিখুন মা। ছেলে বাড়ির কাজ করবে না, সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখবে, ছেলে বড় চাকরি করে,
খোকা আমার চিরকাল ছন্নছাড়া, তারবেলা মানিয়ে নিতে হবে আমাকে।
শাশুড়ি —— আমিও তো ছেলে দোষ দেখি বউমা !
বউমা —– হ্যাঁ, হ্যাঁ দেখেন মা দেখেন, যদি দেখেন খোকা আমার সাথে ফিসফিস করে কথা বলছে, আদর আহ্লাদ করছে চুপিচুপি…
“খোকা বউয়ের সাথে এতো আদিখ্যেতা করিস না, তুই না পুরুষ” !!!!
শাশুড়ি —– কথাটা কী মিথ্যে বউমা? আমাদের সময় সে-ই রাতে গিয়ে দুটো কথা বলতে পারতাম।
বউমা —— আপনাদের কথা ছাড়ুন তো? একগাদা দেওর – ভাসুর কতো ফস্টিনস্টি হতো আপনাদের সময়ে। একটা দেওর-ও নেই যে একটু মিষ্টি মিষ্টি কথা বলবে। একটা মাত্র শ্বশুর ছিল — তাও অকালে চলে গেলেন।
শাশুড়ি —– শ্বশুর একটা মাত্র ই হয় বউমা।
বউমা —— আপনি কিন্তু লাইফটাকে ব্যাপক enjoy করেছেন মা, my dear শ্বশুর 65 years এ ও কী রোমান্টিক…. উফ কী…
শাশুড়ি —– তাঁকে তো ছাড়ো বউমা, অকালে চলে গেলেন…
বউমা —– বারে, আমি তো প্রশংসা করছি, আসলে আপনি খুব জেলাস, শ্বশুর মশাইয়ের সুখ্যাতি নিতে পারেন না ।
শাশুড়ি —– সুখ্যাতি ? বুড়ো বয়সে ভীমরতি ! আমি চা দিলে বউরানী কোথায়? আমি খেতে দিলে বউরানীর খোঁজ, এমনকি স্নানের সময় গরম জলটা বউরানীকেই দিতে হবে ? কেন বাবা আমাকে কী চোখে দেখা যায় না ?
কলমিলতা —– কলমি মুখ বন্ধ রাখতে পারে না, ধ্যাততেরিকি !!!!
বাবু কতো জিনিস আনতো লুকিয়ে লুকিয়ে চপ, ব্লাউজ,শাড়ি আমি সব দেখতাম গো গিন্নীমা, বড় ভালোবাসতো তোমাকে গিন্নী মা।
শাশুড়ি —- নরম মনের মানুষ ছিল যে !
বউমা —— নিজের বউ বুড়ি হলে ওরকম একটু-আধটু হয় — এ-এ-তে দোষ নেই!
মা আপনি কোনোদিন প্রেম করেছেন?
শাশুড়ি —- ইস ! কাকে কী বলতে হয় জানো না বউমা?
বউমা —– না, আসলে আপনাদের তো অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছে, এত্তো বড় লম্বা জীবন…. একটু এদিক-সেদিক, ঠাট্টা-তামাশা, ইন্টু-মিন্টু…..
শাশুড়ি —– না না সে রকম কিছু না, তবে তোমার শ্বশুরের এক বন্ধু মনে হতো দুর্বল ছিল
বউমা —- কী করে বুঝলেন মা ?
শাশুড়ি —– সে-রকম কিছু না।
বউমা —- বুঝেছি বুঝেছি ফাঁকা পেয়ে হাত ধরেছিল?
শাশুড়ি —- না… পা….
বউমা —– শেষ পর্যন্ত পা???? দূর কী ভাবলাম… আর কী হলো?
শাশুড়ি —– পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছিলেন
কলমিলতা —- ধ্যাততেরিকি ধ্যাৎ ( বেশ কায়দা করে ) যা কলমি যা, গিয়ে কাজ গুছিয়ে নে, এসব কথায় তো আর পেট ভরবে না ?
শাশুড়ি —- আর আমি তো দৌড়ে পালাতে গিয়ে কাপড়ে আটকে ওনার ঘাড়ের ওপর পড়ে যাই ( হাসি ) উফ কী লজ্জা কী লজ্জা !
বউমা —– ইস কী শিহরণ !!!
শাশুড়ি —- বউমা? এর ভিতরে শিরহণের কী দেখলে মা ?
বউমা—- হয় মা হয়, এই দেখুন না কাল রাতে লিফটে লোডশেডিং হয়ে গেল, Mr. Romeo আর আমি, পুরুষ মানুষ ভয় পেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন, তবে এক মিনিট। লাইট এসে গেল যে !
শাশুড়ি —– এক মিনিট মানে ষাট সেকেন্ড ! রমিও কে বউমা?
বলেছো খোকা কে ?
বউমা —– শেক্সপিয়রের নাটকের রোমান্টিক হিরো। আপনি না কী? বলা যায় এ কথা? আপনি বলেছিলেন কর্তার বন্ধুর ঘাড়ে পড়ার কথা?
শাশুড়ি —— কোথায় থামতে হয় তোমরা জানো না বউমা?
বউমা —- কোথায় শুরু করতে হয় আপনারা জানতেন না মা। মেয়েবেলা থেকে নিজেদের ইচ্ছে- অনিচ্ছের দাম দেন নি, বাপের বাড়িতে বাবা-কাকা, আর বিয়ের পর পুরুষ দেবতার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতো আপনাদের ভালো লাগা মন্দলাগা।
আর এদিকে হাজার টাকার ঝাড়বাতিতে তাদের রাত কাটতো,বুঝেও না বোঝার ভান করতেন !
কলমিলতা —– না বলেও যে পারি না ? চওড়া লালপেড়ে শাড়ি আর কপালে সিঁদুর ল্যাপা ঘরের মেয়ে মানুষ আমরা — ধ্যাততেরিকি… ধিক্কার এই জীবনের !
বউমা —– চললাম মা, আপনার খোকাকে বলে দেবেন over time আছে, ফিরতে লেট হবে।
শাশুড়ি —— বেশ তো ছিলাম আমি বউমা, আমার মাথাটা চিবিয়ে না খেলেই কী হতো না???
বউমা—– এম টিভি দেখুন, ফ্যাসান প্যারেড দেখুন… ভুলে যান মা, বয়সটা। প্রতিটি মুহূর্তে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন, enjoy মা enjoy. দেখি যাওয়ার আগে ফাইনালি আপনাকে একটা হামি খেয়ে যাই।
শাশুড়ি —– ছাড়ো বউমা ছাড়ো একটা পাগলি কোথাকার।
সত্যি কতো কি যে শেখার আছে মেয়েটার থেকে ( মনে মনে বলতে থাকে শান্তি দেবী।
গলা উঁচিয়ে বলে —- না বউমা তুমি বহ্নি, দিয়া না….
কলমিলতা তুই আমাদের স্বর্ণ রে স্বর্ণলতা, লতার মতো জড়িয়ে রেখেছিস আমাদের সংসার কে।
বাইরে গাড়ির হর্ন মিলিয়ে যায় দূরে………….

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *