লালমনিরহাট বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বেড়েছে:

লালমনিরহাট বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বেড়েছে:

লালমনিরহাট শীতের শুরুতে মাঠজুড়ে সবজির বাম্পার ফলন দেখা যাচ্ছে। লাউ, মুলা, কপি, পটল, বেগুন ও টমেটোসহ নানা সবজি সরাসরি কৃষকের মাঠ থেকে পাইকারি বাজারে যাচ্ছে।

উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও খুচরা বাজারে সবজির দাম কমেনি। সাধারণত এই সময়ে উৎপাদিত এলাকায় সবজির দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে থাকে।

লালমনিরহাট উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি সবজি বাজারের মধ্যে রয়েছে গোশালা, সাপ্টিবাড়ী, নয়ারহাট, মহেন্দ্রনগর, বিডিআর হাট ও বড়বাড়ী বাজার। প্রতিদিন সকালে কৃষকরা এখানে তাদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করেন। এখান থেকে সবজি জেলার বিভিন্ন বাজার এবং অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার জেলা সদরের বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ছোট করলার দাম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, বড় করলা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, গাজর ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর মুখি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

এছাড়া বরবটি প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি ও পাতাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মুলা ২০ থেকে ৩০ টাকা, ধনিয়া পাতা ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকা, আদা ১২০ টাকা, রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং লেবু ২৫ থেকে ৩০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে।

তবে জেলা শহর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বাজারগুলোতে দামের সামান্য ব্যবধান হতে পারে।

পরিবহন ও ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হওয়ায় অন্য জায়গায় দাম বেশি হয়। যেহেতু এখানে সরবরাহ হয়, সাধারণত ১০ থেকে ৪০ টাকায় সবজি পাওয়া যেত। যদি এখানেই এমন দাম হয়, তাহলে অন্যান্য বড় শহরের পরিস্থিতি কেমন, তা কল্পনাই করা যায়। ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফার কারণে এখন বাজার অস্থিতিশীল। নিয়মিত সরকারি তদারকি থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

আড়তে সবজি বিক্রি করতে আসা কৃষক আকবর আলী (৫২) বলেন, হঠাৎ বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস ও ঠাণ্ডা প্রবাহের কারণে সবজি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ফলন কমে যায়। অন্যদিকে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক খরচ বাড়লে উৎপাদন খরচও বাড়ে। এর প্রভাব বাজার দামে পড়ে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, কৃষকরা শীতকালীন সবজির ভালো দাম পাচ্ছেন, যা ইতিবাচক সংকেত। ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। বাজারে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। আশা করি, কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে।
লালমনিরহাটে ভ্রমণে গিয়ে

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার-আবুল বাশার:

সংগ্রহীত

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *