১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে Domestic Worker Employer Association Bangladesh (DWEAB)। আজ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সংগঠনের এক জরুরি সভায় এই ঘটনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
সভায় জানানো হয়, রাজধানীর উত্তরা এলাকায় একটি বাসায় দীর্ঘদিন ধরে শিশুটিকে শারীরিক নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের শিকার করা হয়েছে। নির্যাতনের ফলে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন। সংগঠনটি মনে করে, এই ঘটনা শুধু একটি শিশুর ওপর নির্যাতন নয়, বরং এটি মানবতার বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অপরাধ।
ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ এই ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করছে এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো শিশু গৃহকর্মী এ ধরনের নির্যাতনের শিকার না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ড. আফরোজা পারভীন, সেক্রেটারি নাসিমা হক, ট্রেজারার মিতা রহমান, প্রচার সম্পাদক সেলিনা খাতুন, সদস্য আব্দুল মোমিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
DWEAB এর সভাপতি ড. আফরোজা পারভীন বলেন “একজন ১১ বছরের শিশুকে এভাবে নির্যাতন করা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি মানবতার ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর কোনো শিশুর ওপর এমন নির্যাতন করার সাহস না পায়।”
সংস্থার সেক্রেটারি
নাসিমা হক বলেন, “গৃহকর্মী শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। এই ঘটনায় আবার প্রমাণ হলো, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। আমরা দ্রুত বিচার ও ভুক্তভোগীর পূর্ণ পুনর্বাসন দাবি করছি।”
সংস্থার ট্রেজারার মিতা রহমান বলেন “এই শিশুর ওপর যে নিষ্ঠুরতা চালানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেবে এবং শিশু সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নে আরও জোর দেবে।”
DWEAB এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নিম্নলিখিত দাবি জানাচ্ছে:
1. দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করা
2. দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা
3. ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করা
4. গৃহকর্মী শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন
5. নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা।
Leave a Reply