***তোমাকে পেলে***
“””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
তোমাকে পেলে প্রথমবার বলবো না ভালোবাসি।
আলুথালু চুল, দু’একটা নজর বন্দী, বলব ছাই আছি।
তোমাকে পেলে প্রথমবার বলবো না ভালোবাসি
বলবো না চল বহুতর পথ লংড্রাইভে ঘুরে আসি।
তোমাকে পেলে প্রথমবার হাতের মুঠোয় জ্বালাব না প্রদীপ।
তোমাকে পেলে ভুলে যাব সমস্ত বই, দূরতম দ্বীপ।
ভুলে যাব কলম ঘুরিয়েছি কার কার শোকে অসুখে;
দুটো একটা খসবে তারা, জোছনা মেখে দিব মুখে।
তোমাকে পেলে প্রথমবার বলবো না ভালো আছি।
তোমাকে প্রথমবার পেলে নক্ষত্রপেলব ভালোবাসি।
তোমাকে পেলে প্রথমবারই ঊনবিংশ উত্থান করব
স্ট্রেচারে বসে আভরণ খুলবো, বাহান্নর দ্রোহী হব।
তোমাকে পেলে কোনকিছুই রাখব না আর আগের মত।
বিকিয়ে দেব বসতবাটি, তুমি রোষে জ্বলবে যত।
আমি ডাকব মেঘের ঝুরি, তুমি বলবে এইতো আছি।
তোমাকে পেলে তবু বলব না তোমায় ভালোবাসি।
তুমি আসলে দেওয়ালে আঁকবো একতাড়া বাসর।
তুমি আসলে নদীর জলে স্নান করাব ঠাকুর-ঘর।
তুমি আসলে গোটাবাড়ি মাথায় তুলব– যাব! যাব!
তুমি আসলে ঘুড়ি উড়াব, ডাংগুলি খেলব, কপাল পাটাব।
রক্ত যদি খুব ঝরে যায়, হোলি খেলব, লুডো খেলব
গাঁদাফুলের বিচুলি পেতে শুইতে দেব, দস্যু হব।
তোমাকে পেলে তবু বলব না তোমায় ভালোবাসি
তোমাকে পেলে প্রথমবার বলবো না ভালো আছি।
তুমি এলে মেঘ করবে, নদীর বুকে ঢেউ তুলবে আতর,
তুমি এলে পরান-গাঙে ভাসিয়ে দেব স্থাবর অস্থাবর,
তুমি এলে ঝরবে বকুল, জ্বলবে আগুন সমস্বরে,
তুমি এলে ফুল কুড়ব, ফুল কুড়ব, বাঁধব ঘর একই ঘরে।
তুমি এলে কাঠগোলাপ ও কাঁঠালচাঁপা ঘর ভরাব
তুমি আসলে লংড্রাইভে, লংড্রাইভে শিমলা যাব।
ঝগড়া হবে, মস্তি হবে, দু’এক চুমুক আড্ডা হবে;
রাত্রি হবে, রাত্রি হবে তোমার মুখে চাঁদনি এসে বসে রবে।
তোমাকে পেলে প্রথমবার বলবো না ভালো আছি,
তোমাকে পেলে প্রথমবার ভুলো মন ভালোবাসি,
তোমাকে পেলে এক কুঠুরি শস্যদানা ভালোবাসি,
তোমাকে পেলে তবু বলব না তোমায় ভালোবাসি।
তোমাকে পেলে ঘরের ঘটিবাটি বলবে ভালোবাসি,
তোমাকে পেলে শার্টের বোতাম বলবে ভালোবাসি,
তোমাকে পেলে পড়ার টেবিল বলবে ভালোবাসি,
তোমাকে পেলে বালিশ জুটি বলবে ভালোবাসি।
তুমি আসলে মা-পাখিটা হন্যে হয়ে আধার খুঁজে,
তুমি আসলে শহরগুলো কুর্নিশ জানায় মাথা গুঁজে,
তুমি আসলে একটা মানুষ নীরব নগর ছবি আঁকে,
তুমি আসলে কোলাহলে বসে থাকি পথের বাঁকে।
তুমি আসলে গঙ্গাস্নানে আমিও যাব, শুদ্ধি রথে;
নগর-বালি কুড়িয়ে আনব ‘ষিদ্ধ নগরী লাসা হতে।
ভৈরবী গাঙ, মাছরাঙা হব, পুড়ব নীল, নীল দহনে
তুমি এলে কবিতা লিখব, ছবি আঁকব মেঘের সনে।
চার পেয়ালা এগিয়ে এসে, মধ্যখানে উর্ধ্ব-তলে
হাত পা ছুড়ব, সাঁতার কাটব, খেলব ঢের অথই জলে
তোমাকে পেলে তবু বলব না ভালোবাসি তোমাকে।
তোমাকে পেলে ভালোবাসি তবু বলব না তোমাকে।
নীল রঙে মেলাব নীল, আকাশে চড়াবো আকাশ
ভালোবাসায় ভরিয়ে দেব গৃহশয্যা উর্ধ্ব-অধঃ বাতাস।
বাতাসে ভারী হবে সুখ, তুলে নেব জল থইথই খেলে—
এসব এতসব সবকিছু মিটাব আমি তোমাকে পেলে।
তোমাকে পেলে তবু বলব না ভালোবাসি তোমাকে
তোমাকে পেলে তবু বলব না বেঁচে আছি তোমাকে
তোমাকে পেলে তবু বলব না সাতরঙা তোমাকে
তোমাকে পেলে ভালোবাসি তবু বলব না তোমাকে।
————
~নির্মলকুমার রায়
ডাকবাংলো, তেতুলিয়া, পঞ্চগড়।
Leave a Reply