1. pszxbqua@oonmail.com : angelastine3 :
  2. ashelyculver@poochta.ru : ashelyculver8 :
  3. hthvlixr@mailkv.com : charlene45s :
  4. liubomir8745@gmail.com : creatanlije :
  5. sirazul2664@gmail.com : dakhinbongonews : দক্ষিণবঙ্গনিউজ ২৫.কম
  6. diarly@teml.net : diarly@teml.net :
  7. gisdosmh@mailkv.com : hassanrude7 :
  8. jordozognu@gufum.com : jordozognu :
  9. Nadiburipaji@gmail.com : Nadia :
  10. nola_partee@poochta.ru : nolapartee02 :
  11. pamalaisom@spacemaiil.ru : pamalaisom4 :
  12. patty_pokorny.8035@smass.store : pattypokorny7 :
  13. Shahneowanalam@gmail.com : Shahneowaj :
  14. Shahneowajalamkb@gmail.com : Shahneowajalam :
  15. shibuojha1997@gmail.com : shibu ojha :
  16. tara_benedict@poochta.ru : tarabenedict882 :
  17. vilma.ontiveros@poochta.ru : vilmaontiveros :
  18. fullermichaelsen980@kingsemails.com : wintermargin47 :
লেখক এ এস এম আব্দুল হালিম এর লেখা প্রবন্ধ-নজরুল: সত্য ন্যায়ের অগ্রদূত - dakhinbongonews25
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিক্ষক নিয়োগ ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেয়া আত্মঘাতি : বাংলাদেশ ন্যাপ বাংলাদেশ ন্যাপ’র প্রতিবাদ ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা’ ও ‘মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি’ বাতিল সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি প্রত্যাশী বেগম রহিমা শিকদার জাতির উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা: নতুন ভোরের ডাক। আড়িয়লে ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণায় নির্বাচনী গণসংযোগ নাটোর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণতন্ত্র মঞ্চ মনোনীত প্রার্থী সাংবাদিক শেখ মো. শিমুল গনসংযোগ ব্যস্ত সময় পার করছেন। টঙ্গীবাড়িতে ধানের শীষের নির্বাচনী গণসংযোগ মুন্সীগঞ্জে টঙ্গীবাড়ীতে হাতপাখা মার্কায় গনসংযোগ ও উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিল্লাল টঙ্গীবাড়ীতে হাতপাখা মার্কায় গনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিল্লাল হোসাইন।
বিজ্ঞাপন
★বইমেলা-২০২৬★ বইমেলার ২০২৬ উপলক্ষে আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো, অনেকগুলো নতুন পাণ্ডুলিপির কাজও চলমান। সম্মানীত লেখকদের বলছি, আগামী বইমেলার জন্য লেখা প্রস্তুতের এখনই উপযুক্ত সময়। কেন বলছি? কারণ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করলে নির্ভুল সম্পাদনা, পাঠকপ্রিয় ও মানসম্মত বই প্রকাশের সুযোগ থাকে বেশি। তাই পাণ্ডুলিপি নির্বাচন ও প্রস্তুতের এখনি উপযুক্ত সময়। মনে রাখবেন, পাণ্ডুলিপি ২৫টি ধাপ পেরিয়ে পর্যায়ক্রমে একটি বই হয়। তাই মানমম্মত বই প্রকাশ করতে হলে যথেষ্ঠ সময়েরও প্রয়োজন। আগামী বইমেলায় সপ্তর্ষি প্রকাশন এর সাথে যারা যুক্ত হতে চান তারা যোগাযোগ করতে পারেন। ধন্যবাদ। Shibu Chandra Ojha প্রকাশক, সপ্তর্ষি - Saptarshi ৩৭/১ খান প্লাজা, তৃতীয় তলা, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ ফোনঃ 01714225520/01712158340 হোয়াটস অ্যাপ -01318403248 ই-মেল:shibuvgco@gmail.com

লেখক এ এস এম আব্দুল হালিম এর লেখা প্রবন্ধ–নজরুল: সত্য ন্যায়ের অগ্রদূত

  • সর্বশেষ আপডেট বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩০ বার দেখা হয়েছে
নজরুল: সত্য ন্যায়ের অগ্রদূত
“রাজার পেছনে ক্ষুদ্র, আমার পিছনে রুদ্র, রাজার পেছনে যিনি, তার লক্ষ্য স্বার্থ, লাভ অর্থ, আমার পক্ষে যিনি, তাঁর লক্ষ্য সত্য, লাভ পরমানন্দ।” এমনি সত্যানুরাগী, লোভ-লালসার উর্দ্ধে যে কবি, তিনি শুধু কবি নন, কবির চেয়েও বেশি কিছু তিনি- “মানুষ”।
দৃপ্তকণ্ঠে তিনি বলেছেন, “আমি পরম আত্মবিশ্বাসী। তাই যা অন্যায় বলে বুঝেছি, অত্যাচারকে অত্যাচার বলেছি, মিথ্যাকে মিথ্যা বলেছি কাহারো তোষামদ করি নাই, প্রশংসা এবং প্রসাদের লোভে কাহারো পিছনে পোঁ ধরি নাই। আমি শুধু রাজার অন্যায়ের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ করি নাই- সমাজের, জাতির, দেশের বিরুদ্ধে আমার সত্য-তরবারি তীব্র আক্রমণ সমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে, তার জন্য ঘরের বাইরের বিদ্রুপ, অপমান, লাঞ্ছনা, আঘাত আমার উপর পর্যাপ্ত পরিমাণে বর্ষিত হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুর ভয়েই নিজের সত্যকে, আপন ভবগবানকে হীন করি নাই, লাভ-লোভের বশবর্তী হয়ে আত্ম উপলব্ধিকে বিক্রয় করি নাই। নিজের সাধনালব্ধ বিপুল আত্মপ্রসাদকে খাটো করি নাই….”। নজরুল ছিলেন এমনি সত্যানুসারি। তাঁর কথন, লিখন শুধু কেতাবী নয়, তিনি জীবন দানে প্রমাণ করেছেন দেশ ও জাতি-মানুষকে কতটুকু ভালোবাসেন। ধুপের মত পুড়ে পুড়ে- নিজেকে বিসর্জন দিয়েছেন।
নজরুল জাতীয় কবি। বাংলার কবি। কিন্তু এ বাংলায় তাঁর বিচরণ সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি উদার, উন্মুক্ত বিশ্বে বিচরণ করেছেন তাঁর কাব্যের মাঝে। ভাষা ব্যবহারে নজরুলের ঔদার্য প্রণিধানযোগ্য। বাংলা তাঁর মাতৃভাষা হলেও অনেক কবিতা-গজলে তিনি ভিন্ন ভাষা ব্যবহার করেছেন। কামালপাশা কবিতায় উর্দু-হিন্দু এবং ইংরেজি শব্দ অবলীলাক্রমে ব্যবহার করেছেন। যেমন- “কামাল! तुনে কামাল কিয়া ভাই, লেফট, রাইট, লেফট, খুব কিয়া ভাই, খুব কিয়া।”
হিন্দি-ফারসী-আরবী শব্দের ব্যবহার ও সমন্বয়ে তাঁর কবিতা, কাব্য স্বমহিমায় উজ্জীবিত। বিভিন্ন ভাষার মেলবন্ধন নজরুলের কাব্যকে অপূর্ব ছন্দ-মাধুর্য্য দান করেছে। তাঁর সৃষ্টিশীলতার অভাবনীয় কৌশল, স্থাপত্যশৈলী আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত হয়েছে। ‘রিক্তের বেদন’ এবং ‘মেহের নিগার’ প্রমাণ করেছে, বাংলা ছাড়াও অন্য ভাষায় তাঁর বুৎপত্তি কত উচ্চমানের। এ গল্পে হিন্দি/উর্দু ভাষার ব্যবহার ছিল অভূতপূর্ব। যেমন-
‘গৌরী ধীরে চলো, গাগরি ছলক নাহি যায়
শিরোপরি গাগরি, কমর মে ঘড়া
পাৎরি মকরিয়া তেরি বলখ না যায়
আহা টুট না যায়
গৌরী ধীরে চলো।’
এই অসাধারণ পক্তিগুলো নজরুল নিজেই অনুবাদ করেছেন নিম্নোক্তভাবে-
“ওগো, গৌরবর্ণা কিশোরী, একটু ধীরে চলো-ধীরে। তোমার ভরা কুম্ভ হতে জল ছলকে পড়বে যে। অত শুক্ষ্ম তোমার কটিদেশ ভরা গাগরি, আর ঘড়ার ভারে মুচকে ভেঙে যাবে যে। ওগো তন্বী, গৌরী, একটু ধীরে চল।”
ইংরেজি সাহিত্যের সঙ্গে নজরুলের পরিচিতির স্বাক্ষর মেলে হুইটম্যানের কবিতার অনুবাদে এবং ‘বর্তমান বিশ্ব-সাহিত্যের প্রবন্ধে। জিঞ্জির কাব্যগ্রন্থের ‘অগ্রপথিক’ কবিতাটি রচিত হয়েছিল, হুইটম্যানের ‘Pioneer O Pioneer কবিতা অবলম্বনে। বর্তমান বিশ্ব-সাহিত্য প্রবন্ধে শেলি, মিল্টন, কিটস ও হুইটম্যানের নাম যেমন উচ্চারিত, নজরুলের নামও বিশ্বের বহু দেশে সমুচ্চারিত।
নজরুল এসব কবি বিশেষ করে কিটস ও হুইটম্যানের কবিতাবলী তাঁর অনেক লেখায় অনুসরণ করেছেন। উদাহরণ-
A thing of beauty is a joy for ever
Beauty is truth, truth is beauty. অথবা
Thou wast not born for death, immortal bird! (Keats)
নজরুলের উর্দু/আরবি/হিন্দি ভাষায় রচিত অন্যতম উল্লেখযোগ্য কবিতা ‘শারাবন তহুরা’। এর কয়েকটি পংক্তি নিম্নরুপ:
নর্গিস বাগমে বাহার কি আগমে
ভরা দিল দাগমে
কাঁহা মেরি পিয়ারা, আও আও পিয়ারা।
দুরু দুরু ছাতিয়া
কায়সে এ রাতিয়া, কাটুবিনু সাথিয়া।
অর্থাৎ নার্গিস বাগানে বসন্তের আগুন, আমার চোট খাওয়া মনে,
হে প্রিয়, তুমি কোথায়, প্রিয় তুমি এসো এসো,
দুরু দুরু বুক বন্ধু বিনে,
এ রাত কেমনে যে কাটবে!
নজরুল মানবিক অভিজ্ঞতার কবি। জীবনের কবি। নজরুলের সাহিত্য তাঁর অভিজ্ঞতার বিস্তৃত জমিন থেকে উৎসারিত। “নজরুল তাঁর নিজের জীবনকে করেছিলেন বেদনার মতো টলোমলো, আনন্দের মতো চঞ্চলা ও অনিশ্চিত। নজরুলের ‘নফসানিয়াত’ আর ‘রুহানিয়াত’ ধর্ম-অধর্ম, শাস্ত্র ও ‘শাহাওয়াত’ মিলে মিশে থাকে। যার যা প্রয়োজন তা সে নিতে পারে নজরুল ভান্ড থেকে। নজরুলের এই ঔদার্য তাঁকে পাঠক সমাজে জনপ্রিয় করেছে।
নজরুলের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তাঁকে আমরা জীবন চলার পথে সকল কাজে লাগাতে পারি। মিছিলে-বিক্ষোভে ও প্রতিবাদে। পশ্চিমা নন্দন তত্ত্ব কে কেবলা না করেই তিনি নির্মাণ করেছিলেন তাঁর নিজস্ব শিল্প ভূবন। বাংলা ভাষায় রমনীয় গীতিময়তার মধ্যে তিনি যোগ করেছেন পৌরুষ। কবিতায় তাঁর ব্যক্তিগত হাহাকার পরিণত হয়েছে সকলের। নজরুলে দীর্ঘশ্বাস আছে, প্রার্থনা আছে, ভাষার তুর্কি নাচন আছে, আছে বিক্ষুব্ধ স্বর। দ্রোহের অগ্নি আছে, ছন্দের শীতল ভঙ্গিও নেহায়েত কম নয়।
নজরুল ছিলেন খাটি মুসলমান। কিন্তু ছিলেন তিনি সম্প্রদায়িকতার উর্দ্ধে। ইসলামের মর্মবানী অপরুপ রুপে চিত্রিত হয়েছে তাঁর কাব্য ও কবিতায়। নজরুল তাই কালক্রমে হয়ে উঠেন বাঙালি মুসলমানের সবচেয়ে বড় কবি চাঁদের গর্বের ধন। তিনি বৈষম্যের বিরুদ্ধে যেমন খড়গ হস্ত ছিলেন, তেমনি অন্যায়, অবিচার, যন্ত্রণা ও শোষণের বিরুদ্ধে ছিলেন সদা সোচ্চার। কাব্য গানে-কবিতার পরতে পরতে এর প্রতিধ্বনি শুনা যায়।
নজরুল কট্টর অসম্প্রদায়িক এই অর্থে যে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে এবং কাব্যে সকল সম্প্রদায়কে তাঁর উদার বক্ষে একত্রে ধারণ করেছেন। প্রেমীক কবি নজরুল। প্রেম-সাগরে তাঁর অবগাহন বাংলা সাহিত্য নয় শুধু, আরবী, ইংরেজি-ফারসীতে অবদান রেখেছেন অতি মাত্রায়।
-৩-
নজরুল জন-মানুষের কবি। Poet of the people বা জনতার কবি হওয়া তাঁর সাহিত্যিক রাজনৈতিক বাসনা ছিল। Wordsworth কবির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে যেমন বলেছেন a man special to man তাঁর মতে কবিরা সাধারণের মুক্তি পিয়াসায় সাহিত্য রচনা করেন। একথা সকল কবির বেলায় প্রযোজ্য নয়। কিন্তু নজরুলের বেলায় অকাট্য সত্য। তিনি মানুষের কবি। মানুষকে নিয়ে তাঁর ভাবনা-‘সবার উপরে মানুষ’।
তিনি যা ভেবেছেন, নিসংকোচে তা প্রকাশ করেছেন। এমন স্পষ্টবাদিতা খুব কম কবির কাব্যেই অনুসৃত হতে দেখা যায়। স্পষ্ট, সত্য ও ন্যায়ের পূজারি তিনি।
নজরুলের সত্য, সুন্দর ও মঙ্গলের ধারণা ভারতীয় নন্দন তত্ত্ব গ্রীক ও ইংরেজি কাব্যের মতই রোমান্টিক। এমন কি রবীন্দ্রনাথের নন্দন ভাবনার সাথে কিছুটা সাযুজ্য রয়েছে। ‘Beauty is truth’- উক্তিটি Keats এর মত নজরুলও রোমান্টিক নন্দন ভাবনায় অনেক কাব্য রচনা করেছেন। তার ভাবনায়- “প্রেম-সুন্দর, যৌবন-সুন্দর, স্নেহ-সুন্দর, শোক-দুঃখ সুন্দর, ধ্যান সুন্দর। প্রলয়কেও সুন্দর বলার সাহস পেয়েছেন তিনি। তার মানে ‘প্রলয়-সুন্দর’ শব্দ ব্যবহার করে তার মঙ্গলকামী বিদ্রোহ মনকে জানাতে চেয়েছেন যে, তোমাকে এই অসুন্দর পৃথিবীকে সুন্দর করতে হবে, সর্ব অসাম্য ভেদাভেদ দূর করতে হবে। মানুষ যে সর্বশ্রেষ্ঠ এটা তোমাকে প্রমাণ করতে হবে। নজরুলের মঙ্গল দর্শন বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের পরিপ্রেক্ষিতে খুবই প্রাসঙ্গিক। ‘বিদ্রোহী’ কবিতা এর জীবন্ত উদাহরণ।
“আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল,
আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না,
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে
রণিবে না।”
নজরুলের প্রেম, প্রকৃতি ও মৃত্যু সাহিত্যের অনবদ্য উপাদান। পাশ্চাত্যের যশস্বী কবিগণের অনেকে এবং তুরস্ক, পারস্য, ও অন্যান্য দেশের বিখ্যাত কবি দার্শনিকের সাথে তাঁর মিল খোঁজে পাওয়া যায়। মহাকবি ইকবাল, ওমর খইয়াম প্রমুখের দর্শন চিন্তায় নজরুলের ভাবদর্শন সাযোজ্যপূর্ণ। প্রেয়সীর রূপের ব্যাখ্যা নজরুল কাব্যে জীবন্ত- প্রাণবন্ত। “তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি, সেকি মোর অপরাধ?”। বাংলা সাহিত্যের খুব কম কবির কাব্যে এমন রোমান্স খোঁজে পাওয়া যায়।
“পূজারীনি কবিতা তার আর একটি উদাহরণ।
ঐ কন্ঠ, ও-কপোত- কাঁদানো রাগিণী,
ঐ আঁখি, ঐ মুখ,
ঐ ভুরু, ললাট, চিবুক,
ঐ তব অপরূপ রূপ,
ঐ তব দোলা-দোলা, গতি-নৃত্য দুষ্ট দুল রাজহংসী জিনি’-
চিনি, সব চিনি।
-8-
নজরুলের প্রেয়সীর রূপ বর্ণনা শেকসপিয়ার কবিতা “মাই মিস্ট্রেস আই” (My mistress’s Eyes) এর তুলনা করা যেতে পারে-
“আমার প্রেয়সীর চোখ সূর্যের মতো নয়
তাঁর ঠোঁট থেকে ঢের লাল সমুদ্র প্রবাল
যদিও তুষার শুভ্র সে, স্তন তার নিশ্চয় ম্লান পান্ডুর
যদিও চুল তার রেশম কোমল, যেন কালো তন্তুর বাহার”।
(My mistress’ eyes are nothing like the sun;
Coral is far more red than her lips’ red;
If snow be white, why then her breasts are dun;
If hairs be wires, black wires grow on her head)
প্রকৃতিপ্রেমী নজরুল। প্রকৃতির মধ্যে খোঁজে পেয়েছেন অপার প্রেম-ভালোবাসা-বন্ধুত্ব। জীবনের বিরহ-বেদনা, আনন্দধারা। নিজের জীবনের একাকীত্ব কবি নজরুল হৃদয় নিংরানো স্নেহ-ভালোবাসা প্রকৃতিকে উজাড় করে দিয়েছেন। প্রকৃতিও কবিকে নির্জলা ভালোবাসা দিয়ে তার (কবির) একাকীত্ব কে ভুলিয়ে দিয়েছেন। নজরুলের লিখা, “বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি” একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে।
“তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু আর আমি জাগিব না,
কোলাহল করি সারা দিনমান কারো ধ্যান ভাঙ্গিব না,
-নিশ্চল, নিশ্চুপ
আপনার মনে, পুড়িব একাকী গন্ধবিধুর ধূপ”
পৃথিবীর বহু প্রতিভাবান কবি, কবি নজরুলের মত প্রকৃতি প্রেমী ছিলেন। প্রকৃতির সৌন্দর্য শুধু নয়, প্রকৃতির নিজস্ব যে দর্শন রয়েছে কবি নজরুল তাঁর কাব্যে তা ফুটিয়ে তুলেছেন। Wordsworth, Eliot, Keats প্রমুখের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। একটি উদাহরণ দেই। Wordsworth এর Daffodil কবিতাটিতে তাঁর প্রকৃতি প্রেমের আসল পরিচয় পাওয়া যায়। প্রকৃতির সাথে মানব হৃদয়ের গভীরে যোগাযোগের অনুভূতির বিষয়টি এ কবিতায় অপূর্বভাবে প্রকাশ পেয়েছে। ড্যাফোডিল গুলো জন্মায় সমুদ্র কিনারে কিংবা কোনো জলাশয়ের তীরে। দেখলে মনে হয় তারা যেন একত্রে আনন্দ উল্লাসে মেতে আছে। কবি ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন-“I Wandered lonely as a cloud”, শূন্য হৃদে মন উদাস মনে। ডেফোডিলগুলো কবির সেই শূন্য হৃদয় ভরে দিল সুন্দর অনুভূতির দিকে। এই পুষ্পদলের স্পর্শে কবির হৃদয়ে গভীর পুলক আর আনন্দ ভরে গেল। পরবর্তীতে তাঁর স্মৃতিতে ফুল গুলি ধরা দিয়েছিল জীবন্ত কোনো বস্তুর মতোই। মনে হতো, ওরা যেন দলে দলে নৃত্য করছে, ওরা নৃত্য পটিয়সী, নৃত্য করছিল বাতাসের সাথে তাল রেখে। উড্ডীন পাখির পাখার শব্দের মতোই তারা ছিল মুখর। নজরুলের প্রকৃতি প্রেম এবং এর এই প্রকৃতি একই সূত্রে গাঁথা।
নজরুলের আন্তর্জাতিকতা বা বিশ্বভাবনা সুবিদিত। তিনি বলেছেন-“আমি এ মাটিতে (বাংলায়) জন্মালেও, পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য সমভাবে কথা বলি।” কোন জাত-পাত, দেশ-বিদেশ বলে তাঁর কাছে কোন বিষয় ছিলনা। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, শিখ মুসলমান সকলে তাঁর কাছে ছিল সমান।
সৎ চিন্তা, সত্য-ভাবনায় নজরুল পৃথিবীর অন্য অনেক বিখ্যাত কবির চেয়ে দৃঢ়চেতার পরিচয় দিয়েছেন।
রবীন্দ্রনাথ যেমন বলেছেন, “মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভূবনে…..।
মনোমুগ্ধকর এ ধরিত্রি এর সৌন্দর্য সুধা, চাঁদ সূর্য গ্রহ তারা তাঁর কাছে অতিপ্রিয়। ছেড়ে যেতে চায় না হৃদয়।
-৫-
মৃত্যুদর্শন নজরুল কাব্যে প্রতিভাত হয়েছে অভূতপূর্বভাবে। নজরুলও তেমনি বলেন—
“না ফুরাতে আশা, না মিটাতে ক্ষুধা,
না ফুরাতে ধরণীর মৃত পাত্র-সুধা,
না পুরিতে জীবনের সকল আস্বাদ
মধ্যাহ্নে আসিল দূত! যত তৃষ্ণা সাধ
কাঁদিল ‘আঁকড়ি’ ধরি যেতে নাহি চায়!
ছেড়ে যেতে যেন সব স্নায়ু ছিড়ে যায়!
রবীন্দ্রনাথের মত নজরুল হৃদয়ও এ বিশ্বের সৌন্দর্য বিভা ছেড়ে যেতে নাহি চায়।
আবার, সময় কাল পরিস্থিতি বিবেচনায় মৃত্যুকে হাসি মুখে বরণ করার কথা উল্লেখ করেছেন এই কবি–
মৃত্যু-পথ যাত্রীদল তোমার ইঙ্গিতে
গলায় পরিছে ফাঁসি হাসিতে হাসিতে।
নিত্য-অভাবের কুন্ড জ্বালাইয় বুকে,
সাধিতেছ মৃত্যু-যজ্ঞ পৈশাচিক সুখে।
মৃত্যু সর্বজনীন-সর্বসত্য- বিশ্বনিন্দিত এবং বিশ্ব নন্দিত। নজরুল বিশ্বের অন্য দার্শনিক কবিদের মতই মৃত্যুকে অসহ্য ব্যাথাতুরা হৃদয়ে গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন। কখনও আবার হাসিমুখে ইহাকে বরণ করেছেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও একবার বলেছেন-“মরণরে তুহু মম শ্যাম সমান।” অথ্যাৎ মৃত্যু- তাঁর জন্য আনন্দায়িনী।
মৃত্যুর চিত্র এঁকেছেন কত শত বছর আগে-শেকসপিয়ার। জীবন বা Life কি-তার সংজ্ঞা দিতে প্রকারন্তে তিনি মৃত্যুর কথাই বলেছেন। ম্যাকবেথ নাটকে হেমলেট চরিত্রে যখন তিনি বলেন, “To die, to sleep, no more.” This denial of life after death, the feeling that this life is the end all and be all.”
জীবন সম্পর্কে তাঁর ধারণা (বা দর্শন) অতি তুচ্ছভাবে এঁকে গেছেন শেকসপিয়ার–
Life is but a walking shadow, a poor player,
The struts and frets his hour upon the stage
And then is heard no more, it is a tale
Told by an idiot, full of sound and fury signifying nothing.
নজরুলের “মৃত্যুক্ষুধা”- একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এবং পরবর্তী সময়ের একটি পরিবারের বাস্তবচিত্র নিয়ে লিখা ক্ষুধা, দারিদ্র, বঞ্চনা, সামাজিক দুরাবস্থা, অন্যায়-অবিচার এর মূল ভিত্তি। মৃত্যু নয় অথচ মৃতে্যুর চেয়েও জ্বলন্ত যাতনা। এর চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়। দুমুঠো খেয়ে পড়ে বাঁচার জন্য ধর্মত্যাগ করেও ক্ষুধা ও যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাননি। যুদ্ধোত্তর সময়ের শ্রেণিবৈষম্য, অর্থ সংকট সদাই মৃত্যুচিন্তায় আবর্তিত। শেকসপিয়ারের মৃত্যু অথবা জীবন ভাবনা কাব্যময়, যুক্তিগ্রাহ্য সন্দেহ নেই, কিন্তু নজরুলের জীবন অথবা মৃত্যু-দর্শন শুধুই কাব্যিক নয়।
-৬-
কাব্যের চেয়েও বেশী কিছু; সত্যের বেদীতে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, চলার পথে হাসি, কান্না-দুঃখ, ব্যথা মিশ্রিত কথা মালা। কখনও দুঃখের, কখনও সুখের! কিন্তু সবটুকু সত্য আপন জীবন থেকে নিসৃত। এই বিবেচনায় নজরুল বিশ্ব সাহিত্যে উচ্চতর আসনে আসীন বিবেচিত হওয়ার দাবী রাখে।
নজরুলের দারিদ্র্য ভাবনা দিয়ে শেষ করাতে চাই। এ কবিতা নিতান্তই তাঁর জীবনের কথা—
“নিত্য অভাবের কুন্ড জ্বালাইয়া বুকে
সাধিতেছ মৃত্যু-যজ্ঞ পৈশাচিক সুখে
সহসা চমকি উঠি। হায়-মোর শিশু,
জাগিয়া কাঁদিছ ঘরে, খাওনি ক’ কিছু;
কালি হতে সারাদিন তাপস নিষ্ঠুর,
কাঁদ মোর ঘরে নিত্য-তুমি ক্ষুধাতুর।”
বিশ্বের তাবৎ মানুষ যন্ত্রণাদায়ক ‘ক্ষুধা’ থেকে মুক্তি পাক।
কবি এ এস এম আব্দুল হালিম
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও
চেয়ারম্যান, বিএইচবিএফসি;
জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।
(মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত নজরুল বর্ষ উপলক্ষে এ লেখা)
তথ্যসূত্র:
(১) নজরুল প্রতিভার স্বরুপ- আব্দুল কাদির
(২) নির্বাচিত কবিতা, প্রবন্ধ ও ছোট গল্প সমগ্র- খুররম হোসাইন
(৩) নজরুল ইসলাম- কিশোর জীবনী- হায়াত মাহমুদ
(৪) নব ভাবনায় নজরুল- শাহাদাৎ সরকার (সম্পাদিত)
(৫) William Wordsworth- Ramji Lal
(৬) Macbeth- William Shakespeare (a critical Study)- Dr. S. Sen
(৭) সঞ্চিতা- কাজী নজরুল ইসলাম (প্রকাশক- নজরুল ইনস্টিটিউট)

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর দেখুন...
©দৈনিক দক্ষিণবঙ্গনিউজ২৫.কম এর সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৩-২০২৫
❤️Design With Tamim Zarif