কবিতা : নাটোরের হৃদি
কোনো এক কাক ভেজা বৃষ্টির দিনে
নাটোরের প্রত্যন্ত এক নির্জন গাঁ-এর
মেঠো পথ ধরে হাঁটছি,
মাঝে দমকা হাওয়া আর বৃষ্টির ঝাপটা এসে আমার চোখে মুখে লাগছে।
আকাশে ঘন মেঘের আনাগোনা, চারিদিক আবছা আঁধারে ঢাকা,
বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য কোনো এক নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছি।
হঠাৎ রাস্তা সংলগ্ন একটি বাড়ির উঠোনে
তোমায় বৃষ্টিতে ভিজতে দেখলাম,
আমার মনে হলো এ যেন কোনো এক মেঘ বালিকা?
আলো আঁধারিতে তোমাকে ষোড়শী বলে মনে হলো।
চোখে মুখে তোমার হাসির ঝলকানি, সুগ্রীবা,
টানা টানা চোখ আর হাঁটু অবধি বেয়ে পড়া এলোকেশী চুল,
ঠিক যেন কবিতায় পড়া বনলতা সেন।
দূর থেকে ভেসে আসলো রাখালের মিষ্টি মধুর বাঁশির সুর,
এলোবেশে তোমার শাড়ির আঁচল, আর বৃষ্টিস্নাত অবয়ব,
মুহূর্তেই আমার দৃষ্টি কেড়ে নেয়, আমি অভিভুত হই।
অপলক চোখে তাকিয়ে রই তোমার পানে,
নির্বিকার হয়ে যাই, চারিদিকে শুনশান নীরবতা,
হঠাৎ সম্বিত ফিরে পাই তোমার ডাকে,
এই যে মশাই, কী চান এখানে?
রাস্তা থেকে কোনো এক ফাঁকে তোমার জন্য,
কৌতুহলবশত মুঠি ভরে কুড়িয়ে নিই, মেঠো কোনো ফুল,
সহসাই হাঁটু গেড়ে বসে পড়ি তোমার সামনে,
ফুলগুলো তোমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলি,
তোমাকে আমার অনেক দিনের চেনা,
কী এক মুগ্ধতা তোমার?
নাটোরের বনলতা সেন বুঝি তুমি?
আর অবচেতন মনে বলে উঠি-
আমি তোমায় বড্ড ভালোবাসি হৃদি!
#কবিতা_নাটোরের_হৃদি
Leave a Reply