‘টাকা যার শিক্ষা তার’ এই নীতি বাতিল কর; সর্বজনীন, বৈষম্যহীন, বিজ্ঞানভিত্তিক ও একই পদ্ধতির শিক্ষাব্যবস্থা চালু কর-এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে ১০ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সংগঠক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুদ্র নীল, জেলা সংগঠক শিলা মণি সহ অনেকে। এ সময় কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের জেলা সদস্য সবুজ মিয়া।
বক্তারা বলেন, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও আজ তা বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। “টাকা যার শিক্ষা তার”—এমন নীতিতে দেশ পরিচালিত হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার সংকুচিত হচ্ছে। শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার আর এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধনিক দায়িত্ব। তাই সার্বজনীন শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের উচিত শিক্ষার সমস্ত ব্যায় ভার গ্রহণ করা।
শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার সর্বজনীন অধিকার রক্ষায় অবিলম্বে নিম্নের ১০ দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ:
০১. শিক্ষার আর্থিক দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। শিক্ষার বেসরকারিকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণ অবিলম্বে বন্ধ কর। সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, একইপদ্ধতির, বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা চালু কর।
০২. সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্রুত মেধার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। শিক্ষকদের সর্বোচ্চ বেতন-ভাতা, সামাজিক মর্যাদা, নিরাপত্তা ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত মাস্টার রোল কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণসহ বেতন-ভাতা বৃদ্ধি কর।
০৩. প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হেল্থকার্ডসহ স্থায়ী ডাক্তার নিয়োগ এবং আধুনিক হেল্থ সেন্টার স্থাপন কর।
০৪. সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস করার উপযোগী পর্যাপ্ত রুম, বিজ্ঞানাগার/গবেষণাগার, মিলনায়তন, ব্যায়ামাগার চাই এবং লাইব্রেরি-সেমিনারে পর্যাপ্ত বই চাই। একাডেমিক ক্যালেন্ডার চালু কর।
০৫. কোচিং বাণিজ্য বন্ধ কর। ভর্তি ক্ষেত্রে অনিয়ম দূর কর। সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মবহির্ভূত ফি প্রত্যাহার কর।
০৬. প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক পুষ্টিকর ‘মিড-ডে মিল’ চালু কর। প্রতি বছর বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে দুই সেট ইউনিফর্ম প্রদান কর। শিক্ষা উপকরণের দাম কমাও।
০৭. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজসমূহে স্বতন্ত্র পরীক্ষাহল, ক্লাসরুম নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করে সারা বছর ক্লাস চালু রাখ, ৩ মাসের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ কর।
০৮. পাহাড়ি ও আদিবাসী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভাষাগত অধিকার নিশ্চিত কর। প্রতিটি চা-বাগানে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রতি তিন বাগানকে কেন্দ্র করে একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণ কর।
০৯. জেলায় জেলায় স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ কর।
১০. সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বমুক্ত শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত কর। নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু কর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল কার্যকর কর।
Leave a Reply