সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ভূয়া সাংবাদিক ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জাহাঙ্গীর চৌধুরী রিফাতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্ম, চাঁদাবাজি, নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় অধিবাসী ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, দিরাই উপজেলার হাতিয়া গ্রামের এই ব্যক্তি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে কুলঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জুলাই আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি হামলায় অংশ নেয় এবং এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর তিনি খোলস বদলে সাংবাদিকতার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে পুরো সুনামগঞ্জ জেলা শহর চষে বেড়াচ্ছেন। তিনি নিজেকে বাংলা টিভির মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি এবং জেএটিভি অনলাইনের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করছেন। তবে অনুসন্ধানে তার এসব দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচয় পত্র বা নিয়োগ পত্র ছাড়াই ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে নিজেকে সাংবাদিক হিসাবে প্রতিষ্ঠা করছে ওই কথিত সাংবাদিক রিফাত। নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অফিস-আদালত এমনকি সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে গিয়ে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবী করে সে। চাঁদা না দিলে নানা ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সে। নানা জায়গায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিয়ে দেদারছে চাঁদাবাজি করে চলছে জাহাঙ্গীর।
জেএটিভি অনলাইনের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে জেএটিভির চেয়ারম্যান কিবরিয়া স্পষ্টভাবে জানান যে, জাহাঙ্গীর চৌধুরী রিফাতকে তাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলা টিভির লোগো ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়ানোর বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা বাংলা টিভির প্রতিনিধি আল-হাবিব জানান, বাংলা টিভি থেকে তাকে কোনো নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র বা সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে লোগো ব্যবহার করে এসব বিভ্রান্তিকর কর্মকা- ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এই আওয়ামী ডেবিল ও চাঁদাবাজ সাংবাদিকের ভূয়া পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের নামে ফেসবুকে মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। পাশাপাশি এলাকায় উসকানিমূলক কাজ করা এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে নিরীহ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করে আর্থিক ফায়দা লুটের কাজে মেতে উঠেছে। এছাড়াও ওই ডেবিল বর্তমান সরকারের নানা সমালোচনা করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছে। ডেবিলের তকমা গায়ে থাকায় নিজেকে বাঁচাতে সাংবাদিকতা পেশাকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে সে। ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, ডেবিলদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
Leave a Reply