নারী আন্দোলন গাইবান্ধা জেলার আয়োজনে মালিবাড়ি আঞ্চলিক কার্যালয়ে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেগম রোকেয়ার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
বাংলাদেশ নারী আন্দোলন জেলা কমিটির সদস্য পারুল বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নারী আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক ও জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রোকেয়া খাতুন, মালিবাড়ি আঞ্চলিক শাখার সংগঠক জায়েদা খাতুন, এবং বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুদ্রনীল।
বক্তারা বলেন, বেগম রোকেয়ার চিন্তা ও আদর্শ আজও প্রাসঙ্গিক। সমাজে নারীর অধিকার, শিক্ষা, সম্মান ও সমতার জন্য রোকেয়ার সংগ্রাম নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। নারী নির্যাতন, বৈষম্য ও বৈপরীত্য দূর করতে রোকেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
বর্তমান বাংলাদেশে নারী এখনও বহুমুখী বৈষম্য, সহিংসতা, নিপীড়ন, হয়রানি ও বিচারহীনতার চরম বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিনিয়ত নারী ও কন্যাশিশুর ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও রাষ্ট্রীয় উদাসীনতা, দুর্বল তদন্ত, সামাজিক কুসংস্কার এবং পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি নারীদের নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সীমিত, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য প্রকট, এবং নারী শ্রম এখনো অবমূল্যায়িত—এ বাস্তবতা বদলানো জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন,
ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, দমন-পীড়ন, নারী শ্রমিকের শোষণ এবং নারী অধিকার খর্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে রাষ্ট্র অনেক ক্ষেত্রেই নীরব ভূমিকা পালন করছে। উগ্রতা, ধর্মীয় সংকীর্ণতা ও কুসংস্কারের কাছে নতি স্বীকার নারী অধিকারকে আরও সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নারী মুক্তি ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন সংগঠিত জনআন্দোলন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা। নারী সমতা, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন কখনই টেকসই হতে পারে না। রোকেয়ার আদর্শ বাস্তবায়ন এবং নারী নির্যাতনবিরোধী কঠোর অবস্থানের মাধ্যমেই কাগজে কলমে সমতার বাইরে প্রকৃত সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় নারী নেত্রী, শিক্ষার্থীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply