মেয়েটার গল্প
মাঝেমধ্যে দেখা হতো ছেলেটার
সে হেঁটে হেঁটে স্কুলে যেতো
মেয়েটা ধুলো কুড়িয়ে রাখতো তার কোছরে।
মেয়েটার একটা মস্তবড়ো ধুলোর পাহাড় হল
সেখানে প্রতিদিন সূর্য ওঠে, দুপুর হয়, সন্ধ্যা নামে
তারপর রাত এলে প্রতিটি মানুষের মতো পাহাড়ও ঘুমিয়ে
পড়ে।
পাহাড়টার বুক চিরলে দেখা যায়
সেখানে শুকনো মরুর মতো খাঁখাঁ করছে
একটা নাম— অমলেন্দু ।
নামটা যাতে শুকিয়ে না যায় তাই অর্গানিক পদ্ধতিতে
প্রতিনিয়ত মেয়েটা জল ঢালছে পাহাড়টায়।
নামটা যেন আরেকটু তরতর করে গাছের মতো
ডালপালা
ছড়িয়ে দিতে পারে
তাই প্রতিদিন দিচ্ছে সার, নিড়ানি; নামটায়
কেউ যেন ক্ষতচিহ্ন না আঁকতে পারে তাই বালাইনাশক
ব্যবস্থা নিচ্ছে রোজ।
হঠাৎ দমকা ঝড়ে একদিন দেখলাম
মেয়েটার পাহাড়টা
আর নেই
মাটিতে মিশে একাকার হয়ে গেছে
সাথে তার নামটাও
এরপর থেকে মেয়েটার বাড়িতে আর সূর্য ওঠল না,
দুপুর হয় না, সন্ধ্যা নামে না।
তারপর মেয়েটা কোথায় যেন শুনল
পাখিদের কোনো কষ্ট থাকে না।
তারপর মেয়েটা বুক পাঁজর এক করে পাখি হয়ে গেল।
তারপর থেকে মেয়েটার খবর আর কেউ দিতে পারে না।
ডাকবাংলো, তেতুলিয়া, পঞ্চগড়।
Leave a Reply