আমার বাবা
———-*———-
হে মাঠের তপস্বী,
হেমন্তের কাঁচা সোনা রোদে তোমার ফসলের ক্ষেত যখন শিল্পীর ক্যানভাস,
তখন তার রঙিন তুলির টানে, কার মায়াবি রূপ ফুটে উঠে,তাকি তুমি চেয়ে দেখেছো!
জানি তুমি দেখনি, কারণ তোমার সাদা কালো জীবনে
কোনদিন রঙিন আলপনা আকা হয়নি।
ঝলমলে ফ্রেমে তোমার ক্লান্ত অবয়ব কোন দিন ছবি হ’য়ে বাঁধাই করা হয়নি।
পথের ধারের সেই প্রাচীন বটবৃক্ষ, যার শীতল ছায়াতলে কেটেছে আমার শৈশব,
জৈষ্ঠ্যের অগ্নিঝরা খরতাপেও তুমি কখনো তার ছায়াতলে বসনি!
যখন আকাশ থেকে রুদ্র ধারার আগুন ঝরে পড়তো
তখনো তুমি নিড়ানি হাতে মাটির বুকে লড়েছো এক অন্তহীন যোদ্ধার মতো।
ঘামে ভেজা শ্রান্ত শরীর থেকে যখন লোনাজল ঝরে পড়তো মাটির বুকে, তখনও বটের ছায়ায় না বসে ক্ষেতের আইলে জিরিয়ে নিয়েছ ক্ষণিক কাল।
যেন তৃষ্ণা আর ঘামের সাথেই তোমার মিতালি!
তুমি আসলে নিজেই তপোবন,
শতাব্দীর রুদ্র দাহে পুড়ে অকাতরে মিলিয়েছ সুকোমল ছায়া।
তোমার কোন চাহিদার জৌলুশ নেই, নাই কোন জাগতিক চাওয়া পাওয়ার হিসেব -নিকেশ।
হে মহাবীর,
তোমার ধূলিমলিন চরণের চিহ্নে মিশে আছে আমার ধরিত্রীর সমস্ত পবিত্রতা।
ফসলের প্রতিটি কচি ডগায়, প্রতিটি সোনালী কণিকায় লিখা আছে তোমার জীবনের,
“মহিমান্বিত মহাকাব্য”
“হে পিতা তুমি আমার
আজন্মের এক মহীরুহ”
————*——–*———-*—————
Leave a Reply