হৃদয়ে ঘুণ পোকা
হৃদয়ে ঘুণ পোকা বাসা বেঁধেছে
নিঃশব্দে—
যেমন অচেনা কোনো রাতের অন্ধকারে
পুরোনো কাঠের গোপন গহ্বরে
জন্ম নেয় ক্ষয়ের বীজ।
উপরে সব ঠিকঠাক—
নিশ্চিন্ত আকাশ নীল গাঢ়,
মাঝে মাঝে ভেসে যায়
সাদা-ধূসর মেঘের পাল,
কখনো এক পশলা বৃষ্টি এসে
ধুয়ে দেয় দিনের ধুলো।
চারদিকে সময়ের ব্যস্ততা,
অবিরাম হুড়োহুড়ি,
সম্পদের কাড়াকাড়ি,
স্বপ্নের বাজারে সুখের দরদাম—
অনন্ত জীবন যাপনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা
মানুষকে ছুটিয়ে নিয়ে যায়
অজানা কোনো দিগন্তের দিকে।
সবই যেন আগের মতো—
মানুষ জন্মায়, মরে,
আবার জন্ম নেয় নতুন আশায়;
হাসে, কাঁদে, ভালোবাসে,
কারণে-অকারণে বেঁধে ফেলে
মায়ার অগণিত জাল।
কেউ দেখে না,
নীরবতার গভীর অরণ্যে
কেমন করে একটু একটু করে
ঝরে পড়ে বিশ্বাসের পাতা,
কেমন করে ক্লান্ত হয়ে যায়
অপেক্ষার সবুজ ডালপালা।
বাইরে থেকে কিছুই বোঝা যায় না—
মুখে রয়ে যায় হাসির আলপনা,
চোখে ভাসে ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন,
তবু অন্তর্গত কোনো অদৃশ্য কোণে
অবিরত চলে ক্ষয়ের উৎসব।
সুখের আশা, নিশ্চিন্ত জীবন যাপন,
সফলতার ঝলমলে প্রদীপ—
এসবের অলক্ষ্যে,
একান্ত নিভৃতে,
আত্মার নির্জন বারান্দায়
ঘুণ পোকা বাসা বাঁধে
নিঃশব্দে।
তার শব্দ শোনা যায় না,
কিন্তু একদিন হঠাৎ
ভেঙে পড়ে ভেতরের কাঠামো;
তখন বোঝা যায়—
ধ্বংস সর্বদা ঝড় হয়ে আসে না,
অনেক সময় সে আসে
অতি ধীরে,
অতি গোপনে,
হৃদয়ের গভীরে
একটি ঘুণ পোকার বেশে।
– ৩১/০৫/২০২৬
Leave a Reply