মনের মঞ্চে মহারথী
—————-
মনের ভেতর এক মঞ্চ আছে—
যেখানে আলো নিভে গেলেও
আমি দাঁড়িয়ে থাকি সবচেয়ে উঁচুতে।
কেউ গান গায়—
আমি শুনি,
আর সুরের ভেতর খুঁজি
আমার না-গাওয়া শ্রেষ্ঠ গানটির ছায়া।
কারণ আমি জানি,
আমি কখনো গাইনি—
তবু গানের শেষ কথাটি
সবচেয়ে ভালোভাবে বলার অধিকার
আমারই ছিল।
কেউ কবিতা লেখে,
শব্দে শব্দে জ্বলে ওঠে জীবনের ভাঙা আয়না,
কেউ নাচে—
নিজের শরীরকে ছন্দের নিয়মে
ভেঙে আবার গড়ে,
কেউ রঙে এঁকে ফেলে
অদেখা পৃথিবীর মানচিত্র।
আমি দেখি,
আর ধীরে ধীরে
প্রতিটি দৃশ্যের ভেতর
নিজেকে বসিয়ে দিই কেন্দ্রে।
এক অদৃশ্য বিচারক হয়ে উঠি আমি,
যেখানে সব অর্জনই অসম্পূর্ণ,
শুধু আমার কল্পনাই সম্পূর্ণ।
মনের মঞ্চে আমি দাঁড়িয়ে থাকি—
অভিনেতা, দর্শক, বিচারক—
সবাই আমি।
অন্যের সাফল্যে আমি হাততালি দিই,
কিন্তু ভেতরের নীরব মঞ্চে আমি বলি—
এটা তো আমারই হওয়ার কথা ছিল।
এই কথাটাই
আমার সবচেয়ে নিরাপদ রাজ্য।
এখানে কোনো পথ নেই হাঁটার,
কোনো ঘাম নেই,
কোনো পতনের শব্দ নেই—
শুধু সম্ভাবনার ওপর দাঁড়িয়ে
এক অদৃশ্য উচ্চতা।
মনের মঞ্চে তাই
আমি মহারথী।
অর্জনহীন,
তবু শ্রেষ্ঠতার পূর্ণ আসনে বসা
এক নিঃশব্দ প্রতিদ্বন্দ্বী।
১৬ জুন, ২০২৬ খ্রি.।
Leave a Reply