অবর্ষা
অবর্ষা লেগেছে আজ চাঁদের গ্রহণে,
দৈত্য-কালো মেঘ উড়ে যায় শরৎ-আকাশে।
থিকথিকে কাদা-দুঃখ মায়ের আগমনী গানে,
দুপুরের ভিজে যাওয়া রোদ কাঁদে দিনমণি-আশে।
মাঠের সোনালি ধান ঝরে যায় ঝড়ো বাতাসে,
অকাল বৃষ্টিতে শিউলি ভিজে অকারণে ঝরে।
ঢাকের বাদ্য হারায় ঝড়ের আবেশে,
আনন্দ-জীবনের পত্রপল্লব পুড়ে দহন-জ্বরে।
মহালয়ার শাঁখে সূর্যের গ্রহণ জ্বলে,
আকাশের কালো মেঘে আগুন-চমক।
শরতের সাদা কাশে নিরাশা দোলে,
বিষাদের ঝড়ে নামে অশুভ মড়ক।
একশ’ আট লাল-পদ্ম সাজে শারদীয় রথে,
ধূপ-দীপ-গন্ধ মাখা পুষ্পার্ঘ্য অঞ্জলি করে।
দশভূজা মা আসে মর্ত্যভূমে মঙ্গল পথে,
অশুভ দুঃখ-শোক সরে যায় দূরে।
শরতের শিশির-ভেজা প্রার্থনায় শান্তি নামে,
ধীরে ধীরে কেটে যায় গ্রহণ, মুছে যায় কালো।
ভক্তি-অর্ঘ্য পৌঁছে যায় রুদ্রের রুদ্র-ধামে,
স্নিগ্ধ নীরবতায় জ্বলে ওঠে প্রদীপের আলো।
জগজ্জননীর পদধ্বনি শোনা যায় শঙ্খের সুরে,
ভক্তপ্রাণ খুঁজে পায় আনন্দ-আরতি।
মঙ্গল ঘণ্টাধ্বনি বাজে আগমনী ভোরে,
অবর্ষা ঘুচে মায়ের চরণে জাগে — ওঁ শান্তি।
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫
খাগড়াছড়ি।
https://shorturl.fm/CoKXr
https://shorturl.fm/7Lptq
https://shorturl.fm/t17Ny