***প্রেম***
এবার আশ্বিন এলে
আমরা খুব, খুব সকালে বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়াব;
দুপুর কাটবে উচ্ছ্বাসে; সন্ধ্যে হলে মুখে ফোটবে হাসি;
পাখি হব; বাসমতী ধান, ঢেউয়ে ভেজা
গন্ধে তার স্নান করব;
উত্তরে পাহাড়, ছোটো একটি টিলায় তার
নির্মাণ করব শতাব্দীর ছোটো একটি ঘর; নলখাগড়ার বেড়া দেব;
কাশবনের ছাউনি দেব; দরজা দেব বিচুলি ও বেতের,
সেখানে মাচার ফাঁক গলিয়ে
শিমের নরম নরম ফুলগুল মাথা উঁচিয়ে হাসবে।
ঘরের ভিতর আমরা দুজন মুগ্ধ মানব;
আমাদের ‘অতীত’ নেই
কষ্ট দেওয়াল
কাঁটা নেই,
আমাদের ‘আগামী’ নেই
বিষন্নতার ছায়া নেই;
বাইরে জ্যোৎস্না-আলোয় ভেসে যাবে ঘর,
শোটিবন, পুকুরের নিদ্রা মেখে গায়ত্রী জলে স্নান করবে
চাঁদের সাথে সাথে নক্ষত্ররাও।
এবার আশ্বিন এলে
আমরা দুজন মুগ্ধ মানব
মুগ্ধ ঘরের অন্তরালে
অন্ধকারে শরীর পুড়ে আমলকীবন ভীষণ দূরে
দুটো একটি তারার মতো জ্বলব ভীষণ
পুড়িয়ে ফেলা যন্ত্রণাকে এক নিমিষে।
এরপর আমরা হব ভীষণ উসকোখুসকো,
বিছিয়ে দেব শীতল রঙের শীতল খেরোখাতা;
শুয়ে রব পরস্পর মুখোমুখি; গল্প হবে, আড্ডা হবে, চিমটি
কাটার আচমকা সুখ অভিযোগ হবে;
আর গনগনে ‘প্রেম’ ছুঁয়ে রবে আমাদের এই সমস্ত শরীর।
Leave a Reply