কবি আলম হোসেন এর কবিতা-তোমায় ছদ্মনামে জপি

কবি আলম হোসেন এর কবিতা-তোমায় ছদ্মনামে জপি

তোমায় ছদ্মনামে জপি

আমি একটি মেয়েকে নিয়ে রোজ করে কাব‍্য লিখি,
আমার কাব‍্যের একমাত্র চরিত্র-
আমার ভালোলাগার সেই মেয়েটি,
যাকে ছাড়া আমার কাব‍্য প্রাণ পায় না মোটেই।

আমার কাব‍্যে আমি মেয়েটির একটা ছদ্মনাম দিই,
আমার কাব‍্যে ঘুরেফিরে কোনো না কোনোভাবে,
তার নাম চলে আসে,
আমি তার বলয় থেকে কোনোভাবে বের হয়ে আসতে পারি না,
কেউ যাতে তার কথা বুঝতে না পারে,
তাই আমার কাব‍্যের কথাপকোথনে-
আমি তার ছদ্মনাম ব‍্যবহার করি,
তিনি আর কেউ নন আমার “রাত্রি”।

আমি মেয়েটির নাম কেন রাত্রি দিলাম,
এটাইতো জানতে চাওয়া এখন-আচ্ছা বলছি,
মেয়েটি রাতের মতো নীরব ও শান্ত,
রাতের যেমন একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও গভীরতা আছে,
আমার কাছে মনে হলো মেয়েটিও তেমন,
রাতের নিস্তব্দতা আমার ভালোবাসা,
তাই তার এই নামকরণ।

অনেকেই জানতে চায় এটা কি একটি ছদ্মনাম?
আমিও সকাতরে বলি জি হ‍্যাঁ।
আমার কাব‍্যের এই চরিত্রটি সম্পর্কে অনেকের কৌতুহলও আছে বটে,
একদিন একজন কৌতুহলবশত জিঙ্গেস করলো,
এটা কি কোনো রূপক চরিত্র?
আমি হৃষ্টচিত্তে বললাম না এটি রক্ত মাংসের চরিত্র ।

আজকাল আমি সমান তালে নিজের ঢোল নিজেই বাজাই,
কেউ আমার লেখা একটা কাব‍্য শুনতে চাইলে,
আমি পাঁচটা শুনিয়ে দিই।
আসলে এটা আমার দোষের কিছু নয়,
সব দোষ রাত্রির।
“রাত্রির” কথা পাঠে আমি যে শান্তি পাই,
অন‍্য কিছুতে যে পাই না- তাই সুযোগ পেলে আর হাতছাড়া করিনা।

আমার কাব‍্য শুনে হয়তো কেউ কেউ বলে-
এতো সব একই কথা,
আমি বলবো-
“হোক না সে একই কথা, আমার কাছে নিত‍্য নূতন,
আমি এই নাম জপে অনেক মজা পাই।”
অন‍্য কেউ হয়তো বলে-
সবই দেখি কষ্টের কথা, বিরহ ব‍্যাথায় কাতর হওয়া,
ভালোবাসার ফানুস যতো, আবেগের ছড়াছড়ি ততো,
একটু খানি সান্নিধ্য, আর হাতে হাত ছোঁয়ার আহাজারি,
একাকিত্ব আর নিঃসঙ্গতার যন্ত্রণা-
রাতে নিদ না আসার বেদনার কাহিনী ।

আমি বলি- সে যে আমার বিরহ ব‍্যাথা,
তার তরে কি করে গাই সুখের গাঁথা?
মাঝে মাঝে কষ্টও যে-অনুভূতি বাঁচিয়ে রাখে,
সেই নেশাতেই রাত্রি নামে কাব‍্য বানাই।
আমার বিশ্বাস-
পাঠক মনে আমার কাব‍্য যতোদিন বেঁচে থাকবে
আমার রাত্রিও ততোদিন আমার হৃদয়ে জাগ্রত থাকবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *