“অপেক্ষার উৎসর্গ”
ইচ্ছে করলেই তো তুমি
আমাকে
তোমার নতুন কোনো কবিতার
ভূমিকায়, শিরোনামে, অথবা
স্মৃতির পাতায় এক চিরন্তন ছায়ায় রাখতে পারো।
আমারও তো মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয়,
তোমার কোনো এক কবিতার ক্যানভাসে
আমার অস্তিত্ব অম্লান হয়ে থাকুক—
তোমার কলমের ছোঁয়ায় যেন ছুঁয়ে যাই সময়কে।
কিন্তু সময়…
সে তো আমাকে তার সীমাবদ্ধ ঘেরাটোপে আটকে রেখে
শুধু প্রতিশ্রুতির স্বপ্ন দেখায়—
বলে যায়, “যাও, বিশ্বাসের বীজ বুনে এসো,
একদিন সে ফুটবে কবিতার রঙে তোমার হৃদয়ে।”
জীবন আর মৃত্যুর মাঝপথে দাঁড়িয়ে
যখন আমার ভেতরটা তীব্র হাহাকার আর ক্লান্তির ভারে নুয়ে পড়ে,
ঠিক তখনই এক অচেনা মুখ,
আমার শূন্যতায় আশার আলো হয়ে,
নির্ভরতার হাত বাড়িয়ে বলেছিল—
“এই জীবন প্রদীপ নিভে যেতে এখনো অনেক দেরি আছে…
বিশ্বাস করো, তুমি পারবে!”
তার সেই আশ্বাসে ভর করেই
আমি ধীরে ধীরে মৃত্যুকে অতিক্রম করতে শিখে গেছি।
এখন মাঝেমধ্যে, গভীর রাতে ঘুমের ঘোরে
তোমার কবিতার আড্ডায় যেন টের পাই তোমার ছোঁয়া—
তুমি হাতে তুলে দাও এক নতুন কাব্যগ্রন্থ,
যার প্রথম পাতার উৎসর্গে লেখা—
“যদি আবার পূনর্জন্ম হয়,
অপেক্ষা করো, আমি ঠিক ফিরে আসবো…”
হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়,
জানালার ফাঁক গলে সকালের আলো এসে
চোখে পড়ে—
আর যেন বলে যায়,
“বোকা ছেলে…
একাকিত্বের এই শূন্যতায়
তুমি যে একদম একা!”
Leave a Reply