..মফস্বলের শিলা..
দুপুর-সন্ধ্যা-সকালে ছুটাছুটি করতো যে মেলা,
চাঁদপুর জেলার দাসাদী গ্রাম,মেয়েটির নাম শিলা।
ধূলাবালি তাঁর তনুর সাথে সদা
করতো আলিঙ্গন,
ছুঁটে চলতো নদীর পাড়ে;যেথায়-সেথায়
যেখানে চাইতো মন।
বাদামী রঙের কেশ;এলোমেলো সাজ
কেউ কেউ ডাকতো মিলা,
দেখতাম শুধু চেয়ে;হেলে-দুলে উড়তো চুল
বাতাসে করতো খেলা।
কাঁচা সোনার দেহ;চোখ জুড়িয়ে যায়
দেখে দেখে পেতাম সুখ,
যৌবনের জোয়ার;আসেনি তখনও তাঁর
তবু ভরে বুক।
কলমি-হেলেঞ্চা-মটরশুঁটি বিলে
নিত্য কুড়াতে যায়,
কখনও বলে মাকে;সদায় ভয়ে থাকে
যদি না পায় রায়।
কভু যায় ছুঁটে;জোলাভাতি খেতে
গ্রামের শিশুদের নিয়ে,
মাটির পুতুলের সাথে;মিছে ভাত রাঁধে
পুতুলের দেয় বিয়ে।
সাঁঝের বেলা;ঘুমিয়ে পড়ে মিলা
পাখি-প্রভাতে ওঠে,
মেঘনা নদীর বাঁকে,টেংরা-পুঁটি থাকে
সেগুলো ধরতে ছোঁটে।
ফিরে আসে নীড়ে;কাদামাখানো শরীর জুড়ে
মা যদি করে রাগ,
রাঁধবার তরে;বনের গাছে চড়ে
এনে দেয় শাক।
পাঠাশালায় যাবার বেলা;আড়ালেতে করে খেলা
মায়ের চোখে ফাঁকি,
যদি পড়তো ধরা;অজুহাতে ভরা
সত্য-মিথ্যার সাক্ষী।
মায়ের শাড়ী পড়ে;কখনো পাড়ায় ঘোরে
ইচ্ছেমতো সাজ,
কারো বাড়ির আঙ্গিনায়;দাঁড়ানোর সময় নাই
যেনো কতোইনা কাজ।
মাকে করতে খুশি;দুষ্টবুদ্ধি ফুঁসি
হলুদ-মরিচ বাটে,
“চাল ধুয়েছো মা;দাও দেখি মোর কাছে
যাবো আমি ঘাটে।”
চালা-ডাল ভাজা;খেতে লাগে যা যা
করতো আয়োজন,
বুদ্ধি একটা ঠুকে;করতে কাবু সুখে
মা জননীর মন।
কিছুদিন পর;যাবে পরের ঘর
যৌবন দিয়েছে হানা;
মা জননীর বারণ;হাসে শুধু অকারণ
শুনছেনা কারো মানা।
বুকের জমিন রেখে;নদী গিয়েছে বেঁকে
জড়ায়নি দেহে বেশ,
চেয়ে চেয়ে সাধ;মিঠে আর বাঁধ
লোভে লাগে ক্লেশ।
গ্রহন লেগেছে মনে;ডাকি মোর সনে
বুঝাই মনের কথা,
পাগলিকে করলে বরণ,গোত্রেতে আছে ধরন
সমাজের আছে প্রথা।
ভুলতে তাকে মনে;দূর হতে এলাম ঘুরে
মনে বাঁধলো মিলার ঢেউ,
স্মৃতিও করলো নিশা,একাই নিয়েছিলাম ভিসা
সাথেতে ছিলোনা কেউ।
গিয়ে নদীর পাড়ে;মিলার বাটীর ধারে
দাঁড়িয়ে যেনো কেউ,
আরো কিছুদূর এগোতে;বদনখানি দেখতে
উঠলো অশ্রুর ঢেউ।
সোনার রঙের দেহে;জড়িয়ে নয়া শাড়ী
সিঁদুর কপাল বাটে,
হলুদমাখা গায়ে;নুপুর জড়িয়ে পায়ে
শাঁখা তুলেছে দু’হাতে।
মনে মনে ভালোবেসে;পেলাম অবশেষে
পাহাড় জমানো ক্লেশ,
শিলা আজ পরের ঘরে;স্মৃতির পাতা ঝরে
কবিতা হলো শেষ।।
https://shorturl.fm/Y9uww