কলাম: ছাত্রের রক্তে রঞ্জিত রাজধানী: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বর্বর হামলা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতির ভাঙন।

কলাম: ছাত্রের রক্তে রঞ্জিত রাজধানী: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বর্বর হামলা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতির ভাঙন।

১৪ মে, ২০২৫। ইতিহাসের পাতায় আরও একটি কালো দিন যুক্ত হলো। ঢাকার রাজপথে রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি রক্ষার দাবি নিয়ে বের হওয়া নিরস্ত্র ছাত্র-শিক্ষকদের ওপর যে নারকীয় হামলা চালানো হলো, তা কেবল গণতন্ত্রের মুখে চপেটাঘাত নয়— এটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকটের কথা বলে আসছে। প্রশাসনিক উদাসীনতা, প্রতিশ্রুতির ফাঁকা বুলি, আর কর্তাব্যক্তিদের ক্ষমতাবান বিমুখতার কারণে শিক্ষার্থীদের জীবনে প্রতিদিনই সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। আজ তারা সেই ন্যায্য দাবির বাস্তবায়ন চেয়েছিল, মুখোমুখি হয়েছিল ক্ষমতার ভ্রুকুটি ও লাঠির বর্বরতা।

আজকের পদযাত্রা ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু তাতে বর্ষিত হলো পুলিশের জলকামানের গরম জল, ফাটানো হলো সাউন্ড গ্রেনেড, নিক্ষিপ্ত হলো টিয়ার গ্যাস আর শিক্ষার্থীদের শরীরে পড়লো লাঠির আঘাত। আহত হলেন অনেক ছাত্র, এমনকি শিক্ষকরাও। ছাত্রদের রক্ত রাজপথে গড়িয়ে পড়লো— এক অশুভ বার্তার মতো, যে রাষ্ট্র তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কণ্ঠরোধে এতটাই নির্লজ্জ।

এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা জানাই প্রতিবাদ। এ বর্বরতা শুধু পুলিশ বাহিনীর নয়, এ হল সেই রাষ্ট্রযন্ত্রের, যারা প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু রক্ষা করে না; যারা শিক্ষার অধিকার বলে মুখে বুলি আউড়ে রাজপথে ছাত্র পেটায়।

দাবি জানাই— অবিলম্বে হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ শুধু নিজেদের জন্য লড়েনি, লড়েছে গোটা দেশের শিক্ষা-প্রত্যাশী তরুণদের জন্য। তাদের এই সংগ্রাম কোনো হামলা দিয়ে দমন করা যাবে না।

এই রাষ্ট্র হয় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াবে, নয়তো ইতিহাসের দায় মাথায় নিয়ে একদিন মুখ থুবড়ে পড়বে।

রুদ্রনীল
সদস্য কেন্দ্রীয় কমিটি
বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *