থাকবে না কেউ, করো সম্পদ
ডক্টর মহসিন আলী, নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
যে দিন আমি থাকবো না সে দিন কি কারো পরবে মনে আমার কথা
কে কি ভাববে আমায় নিয়ে জানবো না কো কিছুই আমি সেই সব কথা ।
তোমাদের মাঝে থাকবো না কো দেখবো না আর হাসি কান্না সুখ শান্তি
করবো না আর খেলা ধুলা মারামারি জেদা জেদি প্রতিযোগিতার ভ্রান্তি ।
দেখবে না আর তোমাদের সাথে হই হুল্লোরে মুক্তির মিছিলে দিতে শ্লোগানের ধ্বনি
শহীদের রক্তে রঙ্গানো কাপড়ে বিজয়ের মহা উল্লাসে আর কখনও থাকব না আমি ।
আমি আর কাটবো না সাঁতার আত্রাই নদীর এপার ওপার বাইবো না আর নৌকা
খেয়া মাঝি করবে না পার দিবে না আর কখনও কেহ ধোঁকা রইব শুধু একা ।
যাবো না আর চলন বিলে মাছ ধরিতে নানার সাথে ধান কাটিতে খোলা মাঠে
হাট বাজারে পড়বে না মোর পদচিহ্ন যাব না মেলায় বট তোলা নদীর ঘাটে ।
যাব না আর আম কলা জাম কাঁঠাল লিছু বড়ই তেঁতুল কুড়াতে, মৌচাকে মধু আনতে
ফুল সব্জি ফল ধান সরিষার খেতে পুকুরে আর যাব না নদীর স্রোতে নৌকা বাইতে ।
বন জঙ্গলে ঘুরব না আর পাখির সাথে করব না খেলা ধরব না আর ঘুঘু দোয়েল টিয়া
খাব না আর খেজুর রস পিঠা পুলি মাতবো না আর ফুটবল কাবাডি নৌকা বাইচ নিয়া ।
সবই রইবে যেমন আছে গাইবে গান পাখিরা সব কোলাহলে মাতবে তারা
আমিই শুধু থাকবো না কো সেখানে আমায় নিয়ে হাসবে কাঁদবে তোমরা ।
তোমরা কি কখনও করেছো মনে আমার কথা ভেবেছ কি কভু আমার অভাব
করেছো অনুভব আমার প্রয়োজন একবারও হৃদয়ে কি পড়েছে অনুভূতির ছাপ ?
কেঁদেছো কি কখনো একা একা বা সবাই মিলে করেছো কি স্মরণ আমার স্মৃতি
কত যে স্মৃতি তোমাদের সাথে সমাজ দেশ জাতির তরে বিলিয়েছি জীবনের সব প্রীতি ।
আমি তো হায় যাব মাটির সাথে মিশে পোকা মাকড়ের সাথে আমিও যে হয়ে যাবো মাটি
আমার উপরে গজাবে ঘাস আগাছার জঙ্গল ফসল ফলবে পশু মানুষ করবে হাঁটাহাঁটি ।
আমি তো আর থাকব না তখন, থাকবে পৃথিবী অনন্তকাল বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ নিয়ে
তারা তো জানবে না আমিও ছিলাম একদিন এই পৃথিবীতে তাদের মতোই একজন মানুষ হয়ে ।
রইবো না আমি আর রইবে না আমার কোনো চিহ্ন পৃথিবীর বুকে সবই যাবে মুছে
কয়েক যুগ পরেই আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব সবাই যাবে ভুলে অস্তিত্ব বিলীন হবে শেষে ।
আমার সকল সম্পদ জমি জমা অট্টালিকা শিল্প কারখানা কিছুই রইবে না টিকে আর
সুদ ঘুষ ঠকবাজি ধোঁকাবাজি অন্যায় অবৈধ সব সম্পদ অভিশাপে ধ্বংস হবে বারবার ।
কি প্রয়োজন মানুষের ছোট্ট জীবনে এত অর্থ সম্পদ যা অনন্তকাল ভোগ করা নাহি যায়
যার কাছে রাখবে সে তো হুন্ডি করে পাঠাবে না সে সম্পদ তোমার অনন্তকালের ঠিকানায়
কত অসহায় মানুষেরে ঠকিয়ে সুদ ঘুষ নিয়ে খুন জখম করে অন্যায় অবৈধ পথ ধরে
সম্পদের পাহাড় গড়ে কি তৃপ্তি পাবে মরণে নির্যাতিত মানুষের অভিশাপ নিয়ে ঘাড়ে ।
এই ধন সম্পদ নয় তো তোমার আমার চির দিনের, সবই যে ক্ষণস্থায়ী ভোগের জন্য
কখনও ভেবো না কোনও পার্থিব সম্পদ রইবে চিরস্থায়ী, করবে না তা তোমায় ধন্য ।
দান কর শিক্ষা স্বাস্থ জনহিতকর কাজে দাও
বিলিয়ে অতিরিক্ত সম্পদ যা আছে
তোমার সন্তান গরিব আত্মীয় পাড়া পর্শীদের তোমার শিল্প কারখানার শ্রমিকের মাঝে ।
পাবে তখন জীবনে সুখ আত্মার তৃপ্তি হৃদয় ছোয়া হাসি একাল সেকাল সবকালে শান্তি
মানুষের আর্শিববাদ তোমায় সর্বদা জড়িয়ে ধরে প্রবাহিত করবে অনন্ত কালের প্রশান্তি ।
Leave a Reply