ভাষা আন্দোলনের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ‘ধর্মীয় মোড়কে’ বন্দি করার অপচেষ্টা চলছে: বিশ্বজিৎ শীল।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল অসাম্প্রদায়িকতা, যা বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ধর্মীয় মোড়কে’ উপস্থাপন করে ম্লান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক বিশ্বজিৎ শীল। গণমাধ্যমে পাঠানো এক ফেসবুক বার্তায় তিনি এই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিশ্বজিৎ শীল তার বার্তায় উল্লেখ করেন, পাকিস্তান ভূখণ্ডে যতগুলো আন্দোলন হয়েছে, তার মধ্যে ভাষা আন্দোলন ছিল অন্যতম এক অসাম্প্রদায়িক সংগ্রাম। তিনি বলেন, “পশ্চিম পাকিস্তানিরা মূলত একটি উগ্র বর্বর সাম্প্রদায়িক আক্রমণই চালিয়েছিল বাংলা ও বাঙালিদের ওপর। তারা মনে করত বাংলা ভাষা ‘হিন্দুয়ানী ভাষা’। শুধুমাত্র ধর্মীয় দোহাই দিয়ে উর্দুকে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল।”
তিনি আরও যোগ করেন, রফিক, শফিক, সালাম, বরকত ও জব্বাররা প্রাণ দিয়েছিলেন কেবল ভাষার জন্য নয়, বরং অসাম্প্রদায়িক বাঙালি চেতনার বন্ধন অটুট রাখতে।
শহীদ মিনারকে ‘ধর্মশালা’ বানানোর নিন্দা
গত ৫ই আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ছাত্রনেতা বিশ্বজিৎ শীল বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে শহীদ মিনারে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। কোথাও কোথাও শহীদ মিনারে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
”শহীদ মিনার হলো জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক। কিন্তু শহীদ মিনারে ধর্মীয় আচার পালন করে একে ধর্মশালা বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা ৫২-র চেতনার পরিপন্থী।”
বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন,
২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারের প্রধানের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপ্রধানের কাছ থেকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার পুনরুত্থান প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে এই চেতনাকে অক্ষুণ্ণ না রেখে বরং কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। এটি ‘নতুন মোড়কে পুরাতন কার্যকলাপেরই পুনরুত্থান’ বলে তিনি দাবি করেন।
বার্তার শেষাংশে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা একসময় ভাষার বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের ‘মিথ্যা অভিনয়’ করছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মাহাত্ম্য রক্ষায় এই অপশক্তির বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
Leave a Reply