দূপুরের কড়া রোদ খাঁ খাঁ করছে,,,,রাস্তার মাঝে হেঁটে চলেছে তিন রমনী,তিন জনেই গরমে বেশ অতিষ্ঠ, তাদের কারোই ইচ্ছে ছিলো না কলেজ এ আসার, সামনে এক্সাম, ক্লাস এটেন্ট না করলে মার্কস কম আসবে,বাধ্য হয়ে এই গরমে কলেজ আসা,তার ওপরে তাদের একটা বান্ধবী নেই,রিয়া, তানহা, সাদিয়া বেশ বিরক্ত,,,,
আজকে রিয়ার বাড়ির গাড়ি আসেনি,আসেনি নয়, গত এক মাস ধরে সে বাড়ির গাড়ি ব্যবহার করেনা, এই একমাস সে রিকশা করে বাসায় যায়,
সাদিয়া বিরক্ত হয়ে বললো,, বাপরে যে গরম পড়েছে,কাল থেকে কলেজ আর আসবো না, মার্কস কম পাই পাবো,তাতে কি,,
সাদিয়ার কথায় তানহা সায় দিয়ে বললো,ঠিক বলেছিস, এই গরমে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি, ওদের কথার মধ্য কোথা থেকে মিলন ছুটে আসে,রিয়াদের পথ আটকে দাড়ায়,সাদিয়া আর তানহা একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে, রিয়া মিনলকে দেখে বিরক্তবোধ করলো,কথা না বলেই মিলনের পাশ কেটে চলে যেতে নিলে, মিলন বলে,
রিয়া দাঁড়াও, কথা আছে তোমার সাথে,,,
রিয়া দাঁড়িয়ে গেল,তানহা আর সাদিয়া মিটিমিটি হাসছে,ওদের হাসতে দেখে রিয়া বললো
হাসবি যখন খিলখিল করে হাস এমন মিটমিট করছিস করে হাসছিস কেন?
রিয়ার কথায় সাদিয়া আর তানহা বোকা বনে গেল,রিয়ার কথায় রাগ বিরক্তি স্পষ্ট,,
মিলন বললো,আমার ওপরের রাগ তোমার বান্ধবী দের ওপরে দেখাচ্ছো কেন,?
মিলন সাদিয়া আর তানহার উদ্দেশ্য বললো,তোমরা বাসায় চলে যাও,আমার একটু রিয়ার সাথে কথা আছে
সাদিয়া আর তানহা ওদের কে একা কথা বলতে দেওয়ার জন্য চলে গেল,সাদিয়ারা চলে যেতেই রিয়া মিলনকে বললো,,,
এই আপনাকে না বলেছি আমি না বলা পর্যন্ত আমার সাথে কথা বলতে আসবেন না, তবুও কেন বার বার আমার পিছু নেন কথা বলার জন্য বার বার কেন আমার সামনে আসেন?
মিলন মুচকি হেসে বললো,
ভালোবাসি যে আমার কলিজা টাকে,তার সাথে কথা না বলে তো থাকতে পারি না,,
মিলনের কথায় মিহি কিছুটা লজ্জা পেল,
______________
সাদিয়া আর তানহা হাঁটছে, গরমে অতিষ্ঠ তারা দুজন, ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা, সাদিয়া বিরক্ত নিয়ে বললো
আইসক্রিম খেলে গরম টা কম লাগতো,চলনা তানহা আইসক্রিম খেয়ে আসি,
তানহা সাদিয়া কথায় সায় যানিয়ে বললো,
হুম চল,,,
কোথা থেকে একটা গাড়ি এসে ওদের সামনে এসে দাঁড়াল, আচমকা এমন গাড়িতে ব্রেক কষায় সাদিয়া আর তানহা দুজনেই ভয়ে পিছিয়ে গেল সাদিয়া রাগে কটমট দৃষ্টিতে তাকায় গাড়িটার দিকে,সামনের দিকে এক পা বাড়িয়ে রাগে জোরে চিৎকার করে বলে,,,
কোন মগা গাড়ি চালাচ্ছে, দেখে শুনে চালাতে পারে না, রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হলে সব নিজের বাপের সম্পত্তি মনে করে,যত সব আজাইরা শালারা আমাদের সামনে এসে পড়ে,,
তখনি গাড়ি থেকে ফ্রন্ট সিট এর সাইড থেকে রায়হান বেড়িয়ে আসলো,আর ড্রাইভিং সিট থেকে আরিফ,রায়হান কে দেখে সাদিয়া জিভে কামর মারলো,ইস কি লজ্জা, না জেনে কি কি বলে ফেলেছি,
আরিফ সাদিয়ার দিকে তাকিয়ে বললে,সব কিছু বাবার সম্পত্তি মনে করি না, তবে তোমাকে নিজের সম্পত্তি মনে করি,,
আরিফের কথায় সাদিয়া মুখ ভেংচি কাটলো,,,
রায়হান হুরমুর করে তানহার কাছে আসলো,উত্তেজিত হয়ে বললো,কোথাও লাগেনি তো পাখি,সালার আরিফের বাচ্চা কে বললাম সাবধানে চালা,, শুনলো না,,,
তানহা বললো,আরে আপনি এতো উত্তেজিত হবেন না, আমার কিছু হয়নি,
আরিফ রায়হান এর কথায় ফোঁড়ন কেটে বললো,যা যা তোর পাখিকে নিয়ে একটু বিদায় হ, পারলে ব্যাথা কোথায় কোথায় পেয়েছে এটা চেক করে মলম লাগিয়ে দিস,,
রায়হান আরিফের কথা পাত্তা দিল না, তানহার উদ্দেশ্য বললো,,,
ভাগ্যিস কিছু হয়নি, একটু ওই পাশে আসো কথা আছে,,
তানহা বললো, সকাল এ তো কথা হলো,আবার কি কথা
রায়হান বিরক্ত হয়ে বললো,উফ এতো কথা বলো না তো,চলো,
তানহা রায়হান এর সাথে চলে গেল,যাওয়ার আগে সাদিয়া কে বলে গেল, তুই বাসায় চলে যা, আমি একটু পড়ে যাবো,।।
সাদিয়া আরিফ কে দেখেও না দেখার ভান করে বাসার উদ্দেশ্য যেতে নিল, পেছন থেকে আরিফ গানের সুরে বলে উঠলো,,,
শুনো গো সুন্দরী, বলো কোথায় বাড়ি,???
সাদিয়া পেছনে ঘুরলো,,ভ্রু কুঁচকে তাকাল আরিফের দিকে,
মতলব টা কি আপনার, বলেন তো, ভর দুপুর বেলা গান গাওয়ার সাধ আসছে কোথা থেকে?
আরিফ মাথা চুলকে বললো
মতলব তো অনেক কিছু,কোনটা রেখে কোনটা বলি,,, তবে এখন এর মত মতলব তোমাকে পটানোর,,,
সাদিয়া একই সুরে বললো,
এই আপনার লজ্জা করে না, আমাকে পটানোর ধান্দা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন,
সাদিয়া কথায় আরিফ একটা সয়তানি হাসি দিয়ে ভাবলেশহীন ভাবে বললো,
কি বলেন বিয়ানসাব , লজ্জা সরম আছে বলেই তো জামা কাপড় পড়ে আছি, লজ্জা না থাকলে তো,,,
আর কিছু বলার সুযোগ দিন না,সাদিয়া বুজতে পেরেছে এর পর আরিফ কি বলতে চাই,সাদিয়া চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলে উঠলো,,,
এই না না আর বলতে হবে না, বুজতে পেরেছি আপনার লজ্জা সরম বেশি,,,
এটা মনে রাখবেন সবসময়, তা বেয়ান কেমন আছেন?
জি আলহামদুলিল্লাহ,(সাদিয়া)
আর কিছু বলবেন না? (আরিফ)
সাদিয়া মুখে হাত দিয়ে ভাবার ভান ধরে বললে,
আর কি বলা যায়,,,,🤔
আরিফ মুখ গোমড়া করে বললো,,,
কেউ কেমন আছেন জিজ্ঞেস করলে তাকেও জিজ্ঞেস করতে হয় সে কেমন আছে,,,!!
আরিফের কথা বলার ধরন দেখে সাদিয়ার হাসি পেল, অনেক কষ্টে হাসি থামিয়ে বললো
তা কেমন আছেন বিয়াইসাব?
আরিফ বুকের বা পাশে হাত রেখে বললো
বুকে বড় জ্বালা,,,,
তো ডক্টর দেখান, (সাদিয়া)
আপনি তো ডক্টর (আরিফ)
সাদিয়া মুখ ভেংচি কেটে বললো, আমার সাথে মজা করেন মিয়া, যান তো সামনে থেকে, আমি বাড়িতে যাবো বলেই সাদিয়া বাড়ির উদ্দেশ্য পা বাড়াল,পেছন থেকে আরিফ বলে উঠলো,বাড়ি যাবেন তো ভালো কথা,কবে পটবেন এ টা তো বলে যান,?
সাদিয়া পেছনে না ঘুরেই বলে, যেদিন আপনি পটিয়ে নিতে পারবেন সেদিন পটবো,
আরিফ বুকের বা পাশে হাত দিয়ে স্লাইড করে মিনমিন করে বলে,,,আরিফ তুই শেষ, এই মেয়ে তোকে শেষ করে দিয়েছে,, এই মেয়েকে এক নজর দেখার লাইগা আরিফ খান ভোর পাঁচ টাই ঢাকা থেকে সিলেট এসেছে ভাবা যায়,,,,
___________
রায়হান তানহা কে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে এসেছে,তানহা বার বার নিষেধ করেছে, না আসার জন্য কিন্তুু রায়হান শুনেনি,,,তানহাকে জোর করে এখানে নিয়ে এসেছে,তারা দুজনে দুপুরের লাঞ্চ করে, রায়হান তানহার সামনে একটা গিফট বক্স রাখে,তানহা কৌতুহল নিয়ে প্রশ্ন করে,কি আছে এতে,রায়হান মুচকি হাসি দিয়ে বলে,
খুলে দেখো,,,
তানহা গিফট বক্স টা ওপেন করে,তানহা দেখে বক্স এ এক জোড়া নুপুর,,,
তানহা নুপুর দেখে চোখ দুটো চকচক করে উঠলো,রায়হান জিজ্ঞেস করলো পছন্দ হয়েছে,তানহা খুশিতে গদগদ হয়ে বললো,খুব,,,,,নুপুর আমার খুব প্রিয় জিনিস,
এই জন্য তো এনেছি,রায়হান তানহার হাত থেকে নুপুর নিয়ে তানহার সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো,তানহার পায়ে হাত দিতে গেলে তানহা বাধা দিয়ে বলে,,, আরে আরে কি করছেন, পায়ে হাত দিচ্ছেন কেন,
রায়হান তানহার কথায় পাত্তা দিল না, তানহার নিজের পায়ের ওপরে রেখে নুপুর পড়িয়ে দিল,তানহা লজ্জায় মুখ টা টমেটোর মতো লাল হয়ে গেল,তানহার লজ্জা পাওয়া দেখে রায়হান সয়তানি করে বলে,আমার লজ্জাবতী পাখি,এখনি লজ্জা সব পেয়ে নেও, বিয়েও পড়ে কিন্তু সুযোগ পাবে না লজ্জা পাওয়ার,, রায়হান এর কথায় তানহার ইচ্ছে করছে মাটিতে ঢুকে যেতে,যতটা সম্ভব নিজেকে স্বাভাবিক রাখলে,,
টুকটাক প্রেমালাপ করে রায়হান তানহা কে বাসায় পৌছে দিয়ে অফিসের উদ্দেশ্য চলে যায়।
_________
রিয়া মিলনের উদ্দেশ্য বললো,আজকে কি বলতে এসেছে,তাও এই গরমে দুপুর বেলা,,
মিলন বললো,,,তোমার বাবা আজকে আবার আমাদের বাসায় গেছিল,,,
মিলনের কথায় রিয়া অবাক হয়, সাথে ভয় ও হয়, না জানি তার বাবা কি উল্টা পাল্টা বলে এসেছে,,,রিয়ার তার বাবার ওপরে রাগ ও হয় অনেক,,,মিলনকে বললো
আমি আজকেই বাবার সাথে গিয়ে কথা বলবো,তুমি বাবার কথায় কষ্ট পেও না,,,
রিয়ার কথায় মিলন ফিক করে হেসে দেয়, আর বলে
কোনো কথা বলতে হবে না, তোমার বাবা আমার কাছে গেছিল মাফ চাইতে,,
রিয়া হতভম্ব হয়ে মিলনের দিকে তাকাল,উত্তেজিত হয়ে বললে,মাফ চাইতে গেছে মানে, কি বলছো,আমি তো বাবার কে কিছু বলিনি,আর হঠাৎ করেই বাবা কেন তোমার কাছে মাফ চাইতে যাবে
মিলন সকাল কি কি হয়েছে সব বলতে থাকে,,,,,
ফ্লাসব্যাক
মিলন আর সোহেল তার রুমে বসে কথা বলছিলো, আরাফাত এসেছে মিলা কে শপিং এ নিয়ে যেতে,,কিছুদিন পরই তাদের বিয়ে,মিলা রুমে রেডি হচ্ছিল, তখনি কলিং বেল বেজে উঠলো, ,মিলা রুম থেকে চেঁচিয়ে মিলনের উদ্দেশ্য বললো,ভাই দেখ তো কে এসেছে,,
মিলন গিয়ে দরজা খুলে দিল,দরজার সামনে রিয়ার বাবাকে দেখে অবাক হলো,নিজেকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখলো,,ভদ্রতার খাতিরে মিলন রিয়ার বাবাকে সালাম দিল,
আসসালামু আলাইকুম আংকেল,আপনি হঠাৎ গরিবের বাসায়,,,( শেষর কথাটা খোঁচা মেরে বললো)
আসরাফুল সিকদার কিছুটা অপ্রস্তুত হলেন, তিনি মিলনপর খোঁচা মারা কথাটা বেশ ধরতে পেরেছেন,তবুও নিজেকে স্বাভাবিক রেখে বললে,
ওয়ালাইকুম আসসালাম, তোমার সাথে কিছু কথা বলতে এসেছি,,,,
মিলন রিয়ার বাবাকে নিয়ে ভেতরে ঢুকলেন,ড্রইং রুমে সোফায় এসে বসলেন,
অসময়ে কে এসেছে এটা দেখতে মিলা নিজের রুম থেকে বের হয়ে আসলেন,ড্রইংরুমে রিয়ার বাবাকে দেখে অবাক হলো,,,,,মিলার আসার প সোহেল আর আরাফাত ও আসলো,আসরাফুল সিকদার সোহেল কে এখানে দেখে রেগে গেলেন, বসা থেকে উঠে সোহেল এর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন,সামনে দাড়িয়ে সোহেল এ গাল বরাবর একটা কষে চর মেরে দিলেন,,,,
আসরাফুল সিকদার এমন কাজ এ সবাই হতভম্ব হলেন,কারোর মাথাতেই ঢুকলো না রিয়ার বাবা কেন সোহেল কে চর মারলেন, আর তারা একে অপরকে চিনলো কিভাবে
#চলবে,,,,,,,,
( রিচেক করিনি ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,,, ছোট হয়েছপ বলে কেউ লজ্জা দিবেন না, অনেক কষ্টে এইটুকু লিখেছি)
🫶🫰,,,,,,,,,HAPPY READING,,,,,,,,,,🫶🫰
https://shorturl.fm/uWDRL