লেখক মোঃ- ওয়ালীউল হাসান সোহেল এর লেখা-স্মৃতিকথা

লেখক মোঃ- ওয়ালীউল হাসান সোহেল এর লেখা-স্মৃতিকথা

স্মৃতিকথা

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট এক বিদায়: বদিউজ্জামান ভাইয়ের স্মরণে

গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি হৃদয়বিদারক সংবাদ পেলাম—টিকরকান্দির বদিউজ্জামান ভাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। খবরটি শুনে মনটা ভার হয়ে গেল। তিনি ছিলেন একজন সহজ-সরল, আন্তরিক মানুষ। দেখা হলে সবসময় খোঁজখবর নিতেন—“কোথায় আছো?”, “বাচ্চারা কেমন আছে?”—এইসব প্রশ্নে যেন তাঁর আন্তরিকতার ছোঁয়া থাকত।

গত ঈদুল আযহার ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলাম। সম্ভবত ঈদের তৃতীয় দিন বিকেলবেলা। প্রচণ্ড গরম ছিল সেদিন, বিদ্যুৎতের ক্রমাগত আসা যাওয়া। আমি, আমার বোন জামাই, হাসান, আর আরাফ মিলে টিকরকান্দি থেকে বিলের দিকে যে মেঠোপথ এগিয়ে গেছে, সেই পথে হাঁটতে বের হই। উদ্দেশ্য ছিল স্মৃতিবিজড়িত বিলটির বর্তমান অবস্থা দেখা এবং আমার বোন জামাইকে সেই জায়গার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।

পথের ক্লান্তি দূর করতে আমরা রাস্তার উপর সবুজ ঘাসে বসে পড়ি। রাস্তায় এ সময় লোক চলাচল কম থাকায় সবুজ ঘাস জন্মেছে, মনে হচ্ছিল, যেন পথের উপর সবুজ গালিচা বিছানো হয়েছে। আমরা উত্তরমুখী হয়ে বসেছিলাম, বাতাসের আশায়। গরম ছিল অসহনীয়, কিন্তু বৃষ্টির দেখা ছিল না। হঠাৎ দেখি উত্তর কোনে কালো মেঘ জমছে, হালকা বাতাস বইতে শুরু করেছে। চারপাশে যেন এক অদ্ভুত প্রতীক্ষা—সবাই অপেক্ষা করছে সেই প্রথম ফোঁটার জন্য।

অদূরে কয়েকজন লোক বসে ছিল, আমাদের দিকে তাকাচ্ছিল। আমিও তাকালাম। একজনকে দেখে মনে হলো—এ তো বদিউজ্জামান ভাই! ভাবলাম, তিনিও হয়তো আমাদের মতোই একটু বাতাসের খোঁজে প্রকৃতির সান্নিধ্যে বের হয়েছেন। আমরা যেখানে বসে ছিলাম, সেখান থেকে মাঠ পেরুলেই দেখা যাচ্ছিল টিকরকান্দি প্রাইমারি স্কুল। ভাই এগিয়ে এলেন, হাসিমুখে জিজ্ঞাস করলেন, “কোথায় আছো, কেমন আছো?” আমিও জিজ্ঞাস করলাম, “আপনি কেমন আছেন, ভাই?” উনার বাড়ি স্কুলের পাশেই। খুব করে বললেন, “চলো, বাড়িতে যাই।” আমি বললাম, “ভাই, বিল দেখতে এসেছি, বৃষ্টি আসছে, পরে একদিন আসব।” আমিও হাসিমুখে দাওয়াত দিলাম ঢাকায় গেলে দেখা করার জন্য।

এই ছিল বদিউজ্জামান ভাইয়ের সঙ্গে আমার শেষ দেখা। এরপর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলে মাইল খানেক দূরে বাড়িতে ফিরে আসি।

প্রত্যেক মানুষকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু কিছু মৃত্যু হৃদয়ে গভীর ক্ষত রেখে যায়। বদিউজ্জামান ভাইয়ের অকাল মৃত্যু তেমনই এক বেদনাদায়ক বিদায়।
মহান আল্লাহপাক তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করুন এবং তার পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দিন—আমিন।

3 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *