বুনো… (১৭)
শাহ সাবরিনা মোয়াজ্জেম
বুনো,
নিল বেনারশীতে তহুরা চোখে রঙ্গিন
— ইন্দ্রজিৎতের আবেশ ছড়ায়।
হাত মোজা পা মোজা আর নাকের
— নোলক দোলে শিল পাঠার ঝাঁকুনিতে!
হলুদ কোটার আবেশে পাড়া শুষে নিতে
— আসে বউয়ের নাম ডাকে!
না মর্দ বাকের বিয়ের দ্বিতীয় দিনে
— বউয়ের গায়ে হাত তোলে কারণ
আগেকার দিনে নিত্যদিন সকালে উঠে
— স্বামীর পা ছুঁয়ে সালাম করতে হতো।
একদিন হয়তো নিয়েমের বেড়াজালের
— বাঁধন ছিন্ন হওয়ার ছিলো!
কারণ — নিয়তির ফাটল এটা!
সম্পর্কের ঘোরটেপে প্রতিদিন কথার
— ফাঁকে চলে নিপীড়ন!
তহুরা — চলার বাঁকে বাঁকে ঘর ভেঙে
চলে — রাজধানীতে!
তারপর গার্মেন্টসের জীবন —!
সেখানেও অল্প বয়সি তহুরার রক্ষাকবচ
— কেউ হয়না! উড়ো চিঠি বহু আসে
— শরিরি রসনা বিলাসের আবেশ নিয়ে!
নাহ — এখানে নয়!
বাসা বাড়ির কাজে লেগে যায় তহুরা!
একদিন ঘরের কর্তার অশনি সংকেতে
— চলে যায় নষ্টদের বারামখানায়!
তারপর খালাগীরির আপ্যায়ন চলে
— চলে নষ্টদের পথ ভ্রষ্টের পথে ঠেলে দেয়া!
তারপর আর তহুরাকে পেছনে
— ফিরে তাকাতে হয়নি!
বুনো,
একটি ছায়াকে বহুদিন দেখিনা
প্রখর বিদ্রূপাত্মক মধ্যাহ্নে পাকেচক্রে
আঙ্গুলে আঙ্গুলে ছোঁয়াছুঁয়ী হতো!
একটি বৃদ্ধ চিত্রকর
আমাকে ডেকে যেতো
তাকে আজো খুঁজি ফেরারি ঈষাণে
তার কাছ থেকে ইন্দ্রধনু কিনেছিলাম
খুচরো ছিলোনা —
তাই — আজও ঋণি!
একজন ধী— শক্তিধর বন্ধু ছিলো
যার ভেতরে ভেতরে নুড জং- ধরা কংকাল।
ভুল পথে চলে গেছে সে —
অথচ — তার নিকোটিনের গন্ধ এখনো ঘুরেফিরে আসে!
হেঁটে হেঁটে চলে যায় মন থেকে মনের দূরত্বের ছায়াপথে একটি বৃদ্ধাশ্রম!
অস্পষ্ট বৃদ্ধাশ্রম আর আমি ভৌতিক ছায়া!
ক্ষতিগ্রস্ত — জীবন শ্লথ হাঁটে!
আড্ডায় গল্পে মানুষ জিয়নকাঠির গল্প এখন আর— বলেনা!
কার ঝি —
কার বউ—
কোন গৃ্হস্থবাড়ি ছেড়ে—
উঠোন মাড়িয়ে—
মশাদের কাঁকড় নিক্ষেপে হাতীদের নাস্তানাবুদের কাহিনীর গল্প ফাঁদে!
দুয়ারে খিঁল এঁটে আমি
সমাজকে বুড়ো আঙুল —দেখায়!
সমাজ আমাকে কাঙ্ক্ষিত ঐক্য প্রক্রিয়ায়
কাঙালি করে —তোলে!
শিকল তুলে একঘরে করে রাখে!
তবুও আমি শিঁড়দারা বাঁকা করিনি
কারণ জীবিত শবের হাড় কখনো
বাঁকা হয়না!
আমি তহুরা আমরা এক — অভিন্ন — বেলাবেলির আধার!
তাই বিকলাঙ্গ নপুংসক সমাজপতিদের মুখে থু থু ছিটিয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে সমাজের
কীর্তিনাশা উদাহরণ হয়ে হায়না রক্ত পিপাসুদের — একহাত দেখাতে পারবো
কোনো একদিন, সেদিন হয়তো বেশী দূরে নয়⁉️
Leave a Reply