আমি ভালোবাসি ঢাকা ইউনিভার্সিটি
১৪ জুন সকাল এগারোটা থেকে সারাদিন টুপটাপ, ঝুপঝাপ বৃষ্টি। মৃদুমন্দ বাতাসের সঙ্গে মাঝেমধ্যে ধমকা হাওয়া—সব মিলিয়ে এক অপূর্ব রোমান্টিক পরিবেশ। সেই আবহে হারিয়ে গিয়েছিলাম প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেগময় অনুভূতির গভীরে। অবচেতন মনে খুঁজে ফিরেছি আমার হারিয়ে যাওয়া অসংখ্য মধুময় স্মৃতি—প্রাণপ্রিয় ক্যাম্পাস, কার্জন হল, শামসুন্নাহার হল, টিএসসি—সব মিলিয়ে এক অনির্বচনীয় আবেশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের সঙ্গে পরিচয়, বৃষ্টিভেজা আড্ডা, কবিতা, গান, স্মৃতিচারণ আর দেশি সব মুখরোচক খাবার—দিনটিকে করে তুলেছিল অনন্য। এক ছাতার নিচে বাংলাদেশের মেধাবী সন্তানেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে একত্রিত হয়েছিলেন। প্রবাসের মাটিতে এ যেন এক ঐতিহাসিক মিলনমেলা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোসম্বলিত টি-শার্ট পরে আমরা যেন ফিরে গিয়েছিলাম আমাদের ছাত্রজীবনে। স্মৃতি কখনো ফিরে আসে না, কিন্তু জীবনে কিছু সুন্দর স্মৃতি থাকা জরুরি—যে স্মৃতিচারণ মনকে শানিত করে, হৃদয়ের ভালোবাসার দুয়ার খুলে দেয়।
কানাডায় এসে অনেক সময় নিজেকে ভীষণ একা মনে হতো। মনে হতো, এই নতুন জীবনে যেন নিজেকেই খুঁজে পাচ্ছি না। অথচ আজ গর্বের সঙ্গে বলতে পেরেছি—আমি সেই ক্যাম্পাসের পথ ধরে হেঁটেছি, যে ক্যাম্পাস জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশের অসংখ্য জ্ঞানী, গুণী, মণীষী ও আলোকিত মানুষকে। তাঁরাই আজ ষোল হাজার মাইল দূরে, আটলান্টিকের ওপারে থেকেও বাংলাদেশের পতাকাকে সমুন্নত রেখেছেন।
এত চমৎকার আয়োজনটি অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিকতার মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফোরাম, কানাডা-এর সকল আয়োজককে আন্তরিক সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
প্রত্যাশা রইল—আবার কবে এমন কোনো আয়োজনে অংশ নিতে পারব, আবার কবে ফিরে যাব স্মৃতির সেই সবুজ ক্যাম্পাসে, বৃষ্টিভেজা আড্ডায় আর ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি এক অনুভূতির নাম, এক আজীবন বহন করে চলা পরিচয়ের নাম।
স্কারবরো , কানাডা
১৬/০৬/২০২৬
Leave a Reply