প্রিয় ফারুক,
আমি আজ যখন বের হয়েছি কী ভীষণ বৃষ্টি! এদিকে ছাতাটাও আনা হয় নি! আজকাল কী যে হয়েছে আমার! ধ্যাত কিচ্ছুটি মনে থাকে না। এদিকে পরেছি শাড়ি, ওহ তুমি তো জানোই আমি শাড়ি পরি। না হলে স্কুলের বাচ্চাদের মোটে বাগে আনতে পারি নে। শাড়ি পরে, মুখ মেঘলা আকাশের মতো গম্ভীর করে বয়স দশ বছর বাড়িয়ে ওদের শাসন করি। যা বিচ্ছু একেকটা, একদম কথা শোনে না! আর জানো না তো সব সময় বিচারের কাজ করতে হয়। ম্যাডাম, ও আমাকে ছুঁচো বলেছে! ম্যাডাম ও আমার খাতা ধরে টান দিয়েছে! আরও কতো রকম, কতো ক্রিয়েটিভ চিন্তা যে এদের মাথায় তুমি ধারণাও করতে পারবে না।
এই শাড়ি ভিজে গেলে বড্ড বিপদ। কিন্তু এটাও সত্যি বৃষ্টির ফোঁটা খরতাপের মাটিই খালি ভেজায় না, মানুষের মনও ভিজিয়ে দেয়। প্রিয়জনের কথা মনে পড়ে। তার সাথে এক কাপ চা ভাগাভাগি করে খেতে ইচ্ছে করে। মনে হয় ঘর থেকে বের না হই। ঘর যেন আদুরে ডাক দিয়ে বলছে – ওরে তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে!
কিন্তু না বের হয়ে উপায় আছে বলো? বাবার ওষুধ ফুরিয়েছে। গতকাল থেকেই অ্যাজমার টান উঠেছে। তিথির স্কুলের বেতন দিতে আমাকেই যেতে হবে। মা বললো ঘরে কতো কিছু ফুরিয়েছে। এদিকে টাকা ফুরালেও মাস ফুরায় না যেন। এতো কিছুর হিসেব কষতে কষতে বৃষ্টির অনুভূতি কখন যেন মিলিয়ে গেছে।
এই দেখো সেই তখন থেকে নিজের কথাই বলে যাচ্ছি। কেমন আছো তুমি? মাত্র জ্বর থেকে উঠেছো এখন আবার টিউশনি বাড়িতে ছুটে বেড়িও না। সব হবে, আগে নিজে সুস্থ থাকো। বাড়িতে কি খবর? মায়ের বাত ব্যথা কমেছে? তোমাকে কতো বার বললাম আমাদের গ্রামের হালিম কবিরাজের তাবিজ একটা নিয়ে মায়ের হাতে বেঁধে দাও। তা তোমার এসবে মোটে বিশ্বাস নেই! শোনে কথায় বলে- বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর!
বেশ রাত হলো। যাই ঘুমাই। সকালে আবার ছয়টা মানব বাচ্চা এসে হাউকাউ শুরু করে দেবে। জানি তুমি বড্ড বকা দেবে। কিন্তু বাড়তি দুটো টাকা হলেই লাভ। কতো খরচ জানোই তো?
ইতি
চম্পা
Leave a Reply