মাদকবিরোধী অভিযানের নামে পুলিশের ‘মরাল পুলিশিং’ এবং ছাত্রনেতা নাইম উদ্দীনের ওপর মারধরের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ শীল ও সদস্য সচিব রেহেনা পারভীন খুশি গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান বা বিশেষ কোনো অভিযানের নামে নাগরিকের স্বাধীন চলাফেরায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না। সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের কাজই জনগণের স্বাধীন ও নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করা। অথচ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে উল্টো নাগরিকদের স্বাধীন চলাফেরায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে এবং হেনস্তা করা হচ্ছে। যাকে-তাকে থামিয়ে ব্যক্তিগত মোবাইল ও মানিব্যাগসহ যেকোনো কিছু সন্ত্রাসী কায়দায় ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা কোনো সুষ্ঠু অভিযানের লক্ষণ নয় এবং এতে সুস্পষ্ট নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা নাইম উদ্দীন তার রুমে মশারি টানানোর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর দিয়ে আসার সময় তার পথরোধ করেন রমনা বিভাগের ডিসি জনাব মাসুদ আলম ও তার অভিযান টিম। তল্লাশি চালিয়ে কোনো নিষিদ্ধ দ্রব্য না পাওয়ার পরেও শুধুমাত্র নাগরিকের স্বাধীন নিরাপদ চলাচলে কেন বাধা প্রদান করা হচ্ছে জানতে চাওয়ায়, ছাত্রনেতা নাইমের ওপর ডিসি মাসুদের ইঙ্গিতে পুলিশ সদস্যরা ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়। এটি সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত এবং একজন নাগরিকের স্বাধীন চলাফেরায় অযাচিত হস্তক্ষেপ।
বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি উক্ত ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে ডিসি মাসুদ আলমসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। সেই সাথে পুলিশের যেকোনো ধরনের বেআইনি ও নির্বিচার হস্তক্ষেপ এবং হেনস্তার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে সচেতন ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।
Leave a Reply