বিদায়ী স্বেদবিন্দুর সালতামামি
প্রত্যুষে
বিপন্নতার কালো ছায়া
হামাগুড়ি দিয়ে এসে
আমার দরজায় টোকা মারে।
অলক্ষুণে দিনলিপির আয়না তুলে ধরে—
সেখানে দেখি
অবরুদ্ধ আকাশ,
বিবর্ণ নক্ষত্র,
এবং মানুষের মুখোশে ঘুরে বেড়ানো
ক্লেদাক্ত মিথ্যার জলাভূমি।
আমি স্তম্ভিত হই—
তবু ভেঙে পড়ি না।
স্পর্ধিত কণ্ঠে জানিয়ে দিই—
ঘূর্ণাবর্তের বুকে আমার জন্ম,
আমি আজন্ম
বেঁচে থাকার গেরিলা যোদ্ধা।
আমার শিরায় আর ধমনীতে
অরণ্যের দাবানল,
আমার অস্থিমজ্জায়
অগ্নিস্নাত প্রত্যয়ের উচ্চারণ।
আমি আজন্ম
সত্যের সংশপ্তক এক অভিযাত্রী।
পড়ন্ত বিকেলে
ভাঙা নাওটি বন্দরে ভিড়েছে বটে,
কিন্তু নোঙর ফেলেনি এখনো।
কারণ এই নাও জানে—
সমুদ্রের প্রাণের প্রান্তরে
এখনো কিছু ঢেউ অবশিষ্ট আছে,
এখনো উত্তাল উর্মিমালারা
সত্যের সাথে প্রণয়ের গান গায়।
এই নাও
ঝড়ের চোখে চোখ রেখে
অসীমের দিকে যাত্রা করবে।
মিথ্যার ফেনিল কুয়াশা
আমার সাত পুরুষের ভিটের চৌহদ্দিতে
আজও প্রবেশের সাহস পায়নি।
কারণ আমার পূর্বপুরুষেরা
মাটির ভেতরও রেখে গেছেন
অমোঘ সততার দীপ্ত উত্তরাধিকার।
তবু প্রদোষ নামে—
আর মন ধীরে বলে ওঠে,
“এবার সত্যের সলোমনি তরবারিখানা
খুলে রাখো।
অস্তাচলগামী সূর্যের সাথে
সমভিব্যাহারে হেঁটে চলো।
শেষ প্রহর দূরে নয়।”
তখন আমি
অস্তরাগের দিকে তাকিয়ে দেখি
রক্তিম সূর্য যেন
আমার দীর্ঘ যুদ্ধের সহযোদ্ধা।
তার ক্ষয়িষ্ণু আলোতেও
পরাজয়ের কোনো ভাষা নেই।
আমি অপেক্ষায় থাকি—
শেষ প্রহরের,
শেষ উচ্চারণের,
শেষ দীপ্ত শপথের।
আর কপোলে জমে থাকা
শেষ স্বেদবিন্দুটিকে
অতল মমতায় স্পর্শ করি—
এটাই আমার লড়াকু জীবনের
শেষ স্মারক,
শেষ পতাকা,
শেষ অমর
সাক্ষ্য।
দিগন্তের বাতাস বলছে—
‘ ওকে ঘুমুতে দাও, প্রশান্তির সাদা আচ্ছাদনে ঢেকে দাও’
Leave a Reply