শিশু রামিসাসহ দেশব্যাপী অব্যাহত শিশু ধর্ষণ, নিপীড়ন, নির্যাতন ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সর্বক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদাসীনতায় হামে আক্রান্ত ৫শতাধিক শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচারের দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২৬ মে, বুধবার গাইবান্ধা জেলার মালিবাড়ি অঞ্চলের ফকিরের বাজারে ‘বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলন’ ও ‘বাংলাদেশ নারী আন্দোলন’-এর যৌথ উদ্যোগে এই বিক্ষোভ সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নারী আন্দোলন গাইবান্ধা জেলা শাখার সদস্য শামীম আরা মিনা,বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলন গাইবান্ধা জেলা শাখার সংগঠক রুদ্রনীল। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন গাইবান্ধা জেলা পাঠচক্র ফোরামের সদস্য এড. মমিনুল ইসলাম, জেলা পাঠচক্র ফোরামের সদস্য কমরেড জাহিদুল হক, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পাঠচক্র ফোরামের সদস্য কমরেড কৃষ্ণচন্দ্র পাল প্রমূখ।
সমাবেশে বক্তারা দেশে ক্রমবর্ধমান নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সর্বক্ষেত্রে নারীদের জন্য ভয়হীন ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন: ”আজ ঘরে-বাইরে কোথাও নারী ও শিশুরা নিরাপদ নয়। একের পর এক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমাদের অবিলম্বে এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি যেমন ভাঙতে হবে, সেইসাথে এই সমাজব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে হবে।”
সমাবেশ থেকে হামে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শতাধিক শিশুর নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠোর সমালোচনা ও বিচারের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশে হামের টিকা সরবরাহে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ (UNICEF) বারবার সতর্কবার্তা পাঠানো সত্ত্বেও সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি।
সরকারের এই চরম উদাসীনতা ও অবহেলার কারণেই ৫ শতাধিক নিষ্পাপ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েছে, যা এক ধরনের ‘রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড’। এই শিশুহত্যার দায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডা. মুহাম্মদ ইউনুস এবং তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে যদি শিশু রামিসাসহ সকল নারী-শিশু নির্যাতন ও হত্যার সাথে জড়িত আসামিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা না হয় এবং স্বাস্থ্য খাতের এই চরম ব্যর্থতার বিচার না হয়, তবে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আগামীতে আরও বৃহত্তর ও তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
Leave a Reply