স্থবির সকাল
আজ খুলনার আকাশ বৃষ্টি হয়ে নেমেছে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি—অফিসের জন্য প্রস্তুত, অথচ মন কোথাও যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। নিজের হাতে বানানো এক কাপ চা; একটু কম চিনি, অল্প পানি, গাঢ় লিকার। ঠিক যেমন কিছু অনুভূতি—বাইরে কম প্রকাশ পায়, ভেতরে ততটাই ঘন।
বৃষ্টিতে রাস্তা থেমে আছে, মানুষের ব্যস্ততা থেমে আছে, সময়ও যেন ধীরে হাঁটছে। বাসার মেইন গেটের দিকে তাকিয়ে মনে হলো, পৃথিবীর সবকিছুই যেন আজ আটকে আছে। আমার হৃদয়ও ঠিক সেভাবেই আটকে আছে—এক অদ্ভুত স্থবিরতায়।
এই স্থবিরতার কোনো শব্দ নেই, শুধু ভেজা পাতার ফাঁকে ফাঁকে নীরবতা ঝরে পড়ে।
আজ এই বৃষ্টিতে কিছুই ভালো লাগে না। শুধু মনে হয়, যদি তুমি থাকতে! চোখে চোখ রেখে দু’কাপ ধোঁয়া ওঠা চা হাতে বসতাম। প্রেমের কথা নয়, ভবিষ্যতের হিসাব নয়—একেবারে অপ্রাসঙ্গিক, এলোমেলো কিছু গল্প হতো। হয়তো কোন পুরোনো সিনেমা, কোনো বইয়ের লাইন, কিংবা বৃষ্টির গন্ধ নিয়ে তর্ক।
পৃথিবীতে এমন কিছু অদ্ভুত, অসম্ভব চাওয়া এখনো বেঁচে আছে বলেই হয়তো আমিও মানসিকভাবে বেঁচে আছি।
ভোর আমাকে আজ একটি কথাই শিখিয়েছে—সবচেয়ে বড় নিঃসঙ্গতা একা থাকা নয়; সবচেয়ে বড় নিঃসঙ্গতা হলো, কারও সঙ্গে নীরবে এক কাপ চা ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছেটুকু বুকের ভেতর জমে থাকা।
আজ বৃষ্টি থামুক বা না থামুক, পৃথিবী চলতে শুরু করুক বা না করুক—আমার ভেতরের এই স্থবির সকাল হয়তো আরও কিছুক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকবে, হাতে এক কাপ চা নিয়ে, বারান্দার রেলিংয়ে ভর দিয়ে, মেইন গেটের দিকে চেয়ে। যেন কেউ এসে বলবে—
“চলো, আজ অফিসে নয়; আজ শুধু বৃষ্টিটা দেখি, আর চা ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত গল্প করি।”
১ জুলাই ২৬
Leave a Reply